NH-306 অবরোধ করে অবস্থান-বিক্ষোভ শতাধিক ট্রাকচালকের
রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : মিজোরামে অসমের পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানি এবং বালি বোঝাই ট্রাক চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সমাধান না হওয়ায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও অব্যাহত রয়েছে বরাক উপত্যকার ট্রাকচালকদের অনির্দিষ্টকালের ‘স্টিয়ারিং ছাড়ো’ আন্দোলন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও উদ্যোগ না আসায় আন্দোলনরত চালকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে দক্ষিণ ধলাইয়ের চন্নিঘাট এলাকায় NH-306 অবরোধ করে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছেন শতাধিক ট্রাকচালক। এর জেরে অসম-মিজোরাম রুটে পণ্য পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। জাতীয় সড়কের দু’পাশে আটকে রয়েছে পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারি। চালক সংগঠনের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই মিজোরামের বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে অসম থেকে যাওয়া বালি বোঝাই ট্রাক আটকে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে ট্রাক থেকে বালি খালি করে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চালকদের হেনস্থা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।
সংগঠনের দাবি, সমস্যা সমাধানের জন্য শিলচর ট্রাক ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী, কোলাসিবের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার, অসমের মুখ্যমন্ত্রী এবং বরাক উপত্যকার তিন জেলার জেলা কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আন্দোলন শুরুর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অসম বা মিজোরাম প্রশাসনের কোনও প্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
শিলচর ট্রাক ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিপার আহমদ জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিজোরাম প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও আশ্বাস না এলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর করা হবে।
তাঁর হুঁশিয়ারি, এতদিন আন্দোলনের বাইরে রাখা অয়েল ট্যাঙ্কার, জ্বালানি পরিবাহী গাড়ি এবং যাত্রীবাহী যানবাহনকেও আগামী দিনে আন্দোলনের আওতায় আনা হতে পারে। এতে দুই রাজ্যের মধ্যে যান চলাচল ও পণ্য পরিবহন আরও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চালক সংগঠনের স্পষ্ট বক্তব্য, মিজোরামে অসমের চালকদের নিরাপত্তা, অবাধ যাতায়াত এবং হয়রানি বন্ধে সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।
এদিকে, দীর্ঘ সময় NH-306 অবরোধ থাকায় বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী গাড়ি আটকে পড়েছে। এর ফলে দুই রাজ্যের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক যোগাযোগেও প্রভাব পড়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট মহলের।



