বিশেষ প্রতিবেদক, মরিগাঁও।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাহরিঘাটে বিজেপির ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছে। সোমবার মরিগাঁও জেলার লাহরিঘাট কেন্দ্রের বরসলায় আয়োজিত এক বিশাল দলীয় নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়ে বিরোধী কংগ্রেস দলকে তীব্র আক্রমণ করেন কৃষি ও জলসেচমন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা। সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী হাজরিকা কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করেন। ২০২৯ সালে রাহুল গান্ধী দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন সাংসদ গৌরব গগৈয়ের করা এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই শতাধিক নির্বাচনে পরাজয় বরণ করেছে। দলটি পরাজয়ের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করবে কিনা, সেটাই সন্দেহের বিষয়। যে গৌরব গগৈ নিজেই নিজের বুথে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন, তাঁর এমন অমূলক মন্তব্য করা হাস্যকর।”
অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং অখিল গগৈয়ের মধ্যে বিরোধ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দু’জনের মতাদর্শ একই এবং এটি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। লাহরিঘাট কেন্দ্রের উন্নয়ন প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী হাজরিকা বলেন, কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনকালে লাহরিঘাটে ১৫ কিলোমিটার নদীর বাঁধও নির্মিত হয়নি। কিন্তু বিজেপি সরকার জলসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে — আমি যখন এই বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম — সম্পূর্ণ বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শক্তিশালী নদী ভাঙন-প্রতিরোধী বাঁধ নির্মাণের কাজ হাতে নিয়ে এলাকার বন্যা ও নদী ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেছি। ফলে এখন এই অঞ্চলের কৃষিজমিতে কৃষকরা স্বচ্ছন্দে চাষাবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন।

এদিকে, জনসভায় স্থানীয় বিধায়ক আসিফ নাজারকে ‘পাম যাওয়া গাড়ি’ ও ‘ভেঞ্চার এমএলএ’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পাম যাওয়া গাড়ি এবং ভেঞ্চার এমএলএ দিয়ে কোনো কাজ হয় না। তাই কেন্দ্রটির উন্নয়নের স্বার্থে জনতা উপ-নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। পূর্বে চারবার বিজেপির দখলে থাকা নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রটি ২০১৯ ও ২০২৪ সালে কংগ্রেসের হাতে যায়। গত দু’টি নির্বাচনে কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হওয়ার পর এই উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় কেন্দ্রটি পুনরায় নিজেদের দখলে এনে হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাপক তৎপর হয়ে ওঠা মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা লাহরিঘাটের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় আয়োজিত এই প্রাক-নির্বাচনী সভায় জনতার দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে লাহরিঘাটে একটি বিজ্ঞান মহাবিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে অনুরোধ জানাবেন বলেও আশ্বাস দেন।

এছাড়া, এই অঞ্চলে কংগ্রেসের আমলে চলা গুণ্ডারাজ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন এবং অতি সত্ত্বার লাহরিঘাটে কংগ্রেসের গুণ্ডারাজ বন্ধ হয়ে যাবে বলে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। আজকের এই নির্বাচনী সভায় অসম রাজ্য পরিবহণ নিগমের উপাধ্যক্ষ প্রণবজ্যোতি লহকর, বিজেপির মরিগাঁও জেলা সভাপতি রামপ্রসাদ সরকার, নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, জেলা ও মণ্ডল স্তরের দলীয় কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকার উপস্থিতিতে রাজাগাধোয়া জেলা পরিষদের সদস্য সাবিকুন নাহারের পাশাপাশি বহু সংখ্যালঘু মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন।



