ক্ষেত্রীর সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন মুখ্যমন্ত্রীর, মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : ক্ষেত্রীর তেতেলিয়ায় ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাস্থল সোমবার পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। দুর্ঘটনার কারণ এবং পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি জাতীয় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।

রবিবার সন্ধ্যায় তেতেলিয়ায় এনএইচ-২৭-এ নগাঁও থেকে গুয়াহাটিগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের নিকটাত্মীয়কে প্রত্যেককে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার আশ্বাস দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে জাতীয় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া অংশকে দেখা হচ্ছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (NHAI) চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং দ্রুত রাস্তা মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পুলিশি তদন্ত হবে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সে জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, বিধায়ক ডঃ তপন দাস, গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার, জেলা আয়ুক্ত-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।

এ দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্থানীয় জনতা টোলগেটে টাকা দিয়েও মৃত্যুর মুখে পড়তে হবে কেন এমন অভিযোগ তুলেন। টোলগেটের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন ইদ্রিস আলি (উলুবাড়ি),  অনিমা ডেকা বরদলৈ (লাহরিঘাট), জ্যোতিকা রংহাং (গুয়াহাটি), ইনসান আলি (পালকাটা), প্রশান্ত ফুকন (জাগিরোড), খালাসি তফিকুল আলি (কাহিকুছি) ও চালক গোপাল দাস (জাগীরোড)। দুর্ঘটনার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *