বরাক তরঙ্গ, ২৬ আগস্ট : অসম-মেঘালয় সীমান্তে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আপার লাম্পি ব্যাটালিয়নের লাম্পি বিওপিতে অসম পুলিশের এক কর্মীর ব্যক্তিগত মারুতি অল্টো গাড়িতে আগুন লাগে। আগুনে গাড়িটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
সূত্রের খবর, ২৮তম ব্যাটালিয়নের হাবিলদার অরবিন্দ রায়ের মালিকানাধীন গাড়িটি ক্যাম্পের বাইরে রাখা ছিল। বিওপিতে যাওয়ার রাস্তার বেহাল দশার কারণে গাড়িটি ক্যাম্পের ভেতরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে গাড়িটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে আগুন কীভাবে লেগেছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি অগ্নিসংযোগের ফল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লাম্পি বর্ডার পুলিশ আউটপোস্টে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে গুয়াহাটি থেকে ফরেনসিক দলের সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। তাঁরা গাড়িটি পরীক্ষা করে বিভিন্ন নমুনা ও প্রমাণ সংগ্রহ করবেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ সুপার জন কিশোর গগৈ-সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের এলাকাটি পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
সম্প্রতি শিলঙের উপকণ্ঠে একাধিক ঘটনা এবং জোরাবাটে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অসম-মেঘালয় সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে। এরই মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ, দুষ্কৃতীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত তাদের জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত নাকি পরিকল্পিত, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
এ দিকে, মঙ্গলবার রাতে জয়ন্তীয়া পাহাড়ে পেট্রোল বোমা ছুড়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ‘শ্রী সিমেন্ট লিমিটেড’-এর বোলেরো পিকআপ গাড়ি। জানা গেছে, মুখে কালো কাপড় বাঁধা কয়েকজন দুষ্কৃতকারী এসে গাড়িটিকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ‘শ্রী সিমেন্ট’-এর প্রকল্প বাতিলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (KSU)। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।



