২০ আগস্ট : বুধবার রাতে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (FETSU) সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন (SFI, DSO, DSF) এবং ছাত্র সংগঠন এবিভিপির মধ্যে এই দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের একাধিক ছাত্র নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এবিভিপির বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নিখিল রায় গুরুতর আহত অবস্থায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে পৌঁছান স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ঘটনার প্রতিবাদে যাদবপুর থানার সামনে ধিক্কার বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপি এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করে।ব্রেকিং নিউজ সতর্কতা
এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারীর অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে বাম ও অতিবাম সমর্থকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলিত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলা প্ররোচিত করেছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যাদবপুরে এবার গণতান্ত্রিকভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।’
অন্যদিকে, বামপন্থী ছাত্রনেতা ও রেভোলিউশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্টের (RSF) সদস্য অভিনব দাসের দাবি, এবিভিপি এবং এনএসএফ বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, বাম মনোভাবাপন্ন সাধারণ পড়ুয়াদের অরবিন্দ ভবনে আটকে রাখা হয়, ইট-পাটকেল ছোড়া হয় এবং ক্যাম্পাসের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়। আজ, বৃহস্পতিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ‘ধিক্কার দিবস’-এর ডাক দিয়েছে এআইডিএসও। ডিএসও রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ও আরএসএস পরিকল্পনা করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যময় ছাত্র আন্দোলনের সংস্কৃতি ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রচণ্ড আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ও থানার সামনে বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এবিভিপির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বড়সড়ো বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।



