২০ আগস্ট : কেনিয়ায় সাফারি ভ্রমণের সময় পর্যটকবাহী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধান মিশেল সেনসি-কন্তুজি, তার স্ত্রীসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই মার্কিন নাগরিক। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটির পাইলটও মারা গেছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিটের দিকে কেনিয়ার সামবুরু কাউন্টির মাউন্ট ওলোলোকওয়ের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কেনিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি ছিল ইউরোকপ্টার ইসি-১৩০ বি৪ মডেলের, যার নিবন্ধন নম্বর ৫ওয়াই-জিওয়াইএম। এটি লাইসাবা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা থেকে ইওয়াসো নিয়িরো এলাকার দিকে যাচ্ছিল। হেলিকপ্টারটিতে মোট সাতজন ছিলেন—ছয়জন যাত্রী ও একজন পাইলট। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যায় এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি পর্যটকদের নিয়ে ওই এলাকার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্যপ্রাণী দেখানোর জন্য বিশেষ ভ্রমণে ছিল। লাইসাবা সংরক্ষণ এলাকা কেনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় বন্যপ্রাণী পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটন প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডবিয়ন্ডের মাধ্যমে এ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেনিয়ার বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইকুয়েডরের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক মিশেল সেনসি-কন্তুজি এবং তার স্ত্রী স্টেফানি হলিহান। ২০২৪ সালে তিনি ইকুয়েডরের কৌশলগত গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার কার্যালয় তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মকর্তার আকস্মিক মৃত্যু ইকুয়েডর সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে নিহত হয়েছেন টেলিমুন্ডোর জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হোসে আলবের্তো সুয়ারেজ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় টেলিমুন্ডোর কয়েকটি স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে এনবিসিইউনিভার্সালের শীর্ষ কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করে তাকে দক্ষ ও সহকর্মীদের প্রতি যত্নশীল একজন নেতা হিসেবে স্মরণ করেছেন।
নিহত অন্য মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন রজার এডওয়ার্ড দুয়ার্তে, অ্যাডাম মার্টিন হ্লাভাতি ও হেনরি পারা। দুর্ঘটনায় নিহত পাইলটের নাম জশ আউটরাম বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হলেও তাদের জাতীয়তা ও ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত কিছু তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।



