মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ মে : অসমে এনডিএ সরকারের নতুন কার্যকালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উৎসবের আবহে মেতে ওঠে গোটা রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে গুয়াহাটি শহর কার্যত ভিভিআইপি মহানগরীতে পরিণত হয়। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ব্যাপক উৎসাহে গুয়াহাটিতে পৌঁছান। বুথ স্তরের কর্মী থেকে শুরু করে মণ্ডল ও জেলা নেতৃত্বের মধ্যেও ছিল প্রবল উদ্দীপনা। শ্রীভূমি জেলার ১২৫ নম্বর পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও বিজেপি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। জেলার বিভিন্ন ব্লক ও মণ্ডল থেকে কয়েকশো কর্মী বিশেষ রেলযোগে সোমবার ও মঙ্গলবার সকালে গুয়াহাটি পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত থেকে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শপথ গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে পাথারকান্দির বিজেপি কর্মীরা স্থানীয় বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা প্রত্যেকে দলের একজন সৈনিক। তাই এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি।”
কর্মীদের মতে, দেশ ও সমাজের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রবাদী সরকারের প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই আদর্শ নিয়েই ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে। তাঁদের দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত ধীরে ধীরে তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে চলেছে।

অসমের প্রসঙ্গ টেনে কর্মীরা বলেন, ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গ্রামীণ উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নয়নের ছোঁয়া সীমান্তবর্তী পাথারকান্দি, রামকৃষ্ণনগর, উত্তর ও দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা এলাকাতেও পৌঁছেছে বলে তাঁদের দাবি। বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল সম্পর্কে কর্মীরা বলেন, টানা তিনবার নির্বাচিত হয়ে তিনি শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসই গড়েননি, তাঁর নেতৃত্বে গত দুই কার্যকালে পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে এলাকার মানুষ শান্তি ও উন্নয়নের পরিবেশে বসবাস করছেন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিষেবার অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে সমাজে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। তাঁরা আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পালের নিরলস পরিশ্রম ও উন্নয়নের প্রতি দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে ফিরে কর্মীদের প্রত্যাশাও আরও বেড়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পাথারকান্দি বিধানসভাকে রাজ্যের অন্যতম সমৃদ্ধশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাঁরা কাজ করতে চান। বিশেষ করে যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্পায়নের উপর জোর দেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
কর্মীদের মতে, গত কার্যকালে রাজ্য সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বহু যুবক-যুবতীকে স্বনির্ভর করে তুলেছে। ফলে যুব সমাজের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
গুয়াহাটি থেকে ফিরে বিজেপি কর্মীরা আবারও বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁদের বক্তব্য, তাঁর সৌজন্যেই তাঁরা এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ প্রত্যক্ষ করা তাঁদের জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
কর্মীদের ভাষায়, “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস”-এর আদর্শ নতুন করে তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁরা মনে করেন, উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের এই নতুন অধ্যায় আগামী দিনে শ্রীভূমি জেলা তথা পাথারকান্দির অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
তাঁরা একসুরে জানান, ভারতীয় জনতা পার্টির সুশাসন ও উন্নয়নের বার্তা সামনে রেখে আগামী দিনেও পাথারকান্দি সহ শ্রীভূমি জেলার প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের কাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবেন।



