১৭ আগস্ট : বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন দলের নতুন কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের তালিকা ঘোষণা করেছেন। অভিজ্ঞ নেতা এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় একাধিক পরিচিত মুখের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন নতুন নেতারাও। আসন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ানোই এই পুনর্গঠনের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার প্রত্যাবর্তন। তাঁকে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকেও বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা কিছুটা কমলেও এবার তাঁকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় মোট ১৩ জন সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি, ১৬ জন সর্বভারতীয় সম্পাদক এবং ৮ জন সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পেয়েছেন। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্মৃতি ইরানি ছাড়াও রয়েছেন বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বাঞ্চাল, বিপ্লব কুমার দেব, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র পাটিল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া।
সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে বসুন্ধরা রাজের পাশাপাশি সাংসদ বৈজয়ন্ত পাণ্ডাকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের বিভিন্ন মোর্চাতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। হেমাং যোশীকে বিজেপি যুব মোর্চার নতুন সভাপতি এবং রূপ কুমারী চৌধুরীকে মহিলা মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে।
দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক পদে বিএল সন্তোষ বহাল থাকছেন। পীযূষ গোয়েলকে কোষাধ্যক্ষ এবং অনিল বালুনিকে ফের মিডিয়া-ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আইটি সেলের নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। অমিত মালব্যকে সরিয়ে ছত্তিশগড়ের নেতা দীপক মাহস্কেকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের আইটি সেলের কৌশল তদারক করে আসছেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ড. সম্বিত পাত্রকে। সহ-সমন্বয়ক হয়েছেন রাজীব বাবর। অসম বিজেপির ক্ষেত্রেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ খবর। দলের নেতা মৃগাঙ্ক দেববর্মনকে সর্বভারতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে অসম বিজেপিতে একাধিক সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বর্মনসহ মোট ১৬ জন নেতা সর্বভারতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
বিজেপির শীর্ষ সাংগঠনিক কাঠামোয় চার সদস্যের মার্গদর্শক মণ্ডলী রয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও রয়েছেন প্রবীণ নেতা এলকে আদবানি, মুরলী মনোহর যোশী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এরপর রয়েছে ১২ সদস্যের সংসদীয় বোর্ড, যার চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিতেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। সংসদীয় বোর্ডের ১২ সদস্যের পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার প্রধান বানাথী শ্রীনিবাসনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন ‘টিম নীতিন’-এ অভিজ্ঞতা, মহিলা নেতৃত্ব এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার এবং নির্বাচনী কৌশল আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই রদবদল বলে বিজেপি সূত্রে জানা গেছে।



