৮০তম স্বাধীনতা দিবসে কাবুগঞ্জ জনতা কলেজে দু’দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৫ আগস্ট : ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কাবুগঞ্জ জনতা কলেজে দু’দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতার চেতনা, জাতীয় ঐক্য, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের বার্তা সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

দু’দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে শুক্রবার কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. দেবাশিস পাল। প্রথম দিনেই কলেজের উদ্যোগে বের হয় বিশাল তেরঙা বাইক র‍্যালি। সকাল সাড়ে ৯টায় কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালির সূচনা হয়। অধ্যক্ষ, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা এবং বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী এতে অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বাইক র‍্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে নতুন বাজার, বারমণি হয়ে কাবুগঞ্জ বাজার পরিক্রমা করে পুনরায় কলেজে এসে সমাপ্ত হয়।

এর পাশাপাশি অসম সরকারের ‘বৃক্ষ বন্ধু’ অভিযানের অঙ্গ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার বৃক্ষচারা বিতরণ করা হয়।

প্রথম দিনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ছিল ‘বন্দে মাতরম’ রাষ্ট্রীয় সঙ্গীতের ১৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মানবশৃঙ্খল ও সংগীত পরিবেশন। শিলচর-আইজল ৩০৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে কলেজের সম্মুখে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম ও জাতীয় সংহতির বার্তা তুলে ধরা হয়।

দু’দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসে সকাল ৮টায় কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অধ্যক্ষ ড. দেবাশিস পাল। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যে দেশপ্রেম, জাতীয় চেতনা, বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষের উপকারিতা, নাগরিক দায়িত্ব এবং সুষ্ঠু দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যক্ষ।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপিকা ড. পিনাকী দাস। তিনি বলেন, তিনি বলেন বীর দেশপ্রেমীদের ত্যাগ আমাদের উত্তরসূরীদের মনে রাখা প্রধান দায়িত্ব । দেশকে স্বাধীন করার জন্য স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা কিন্তু মুক্ত আকাশ তো আমাদের জন্য রেখে গেছেন। তাই দেশকে ভালো রাখা, দেশেের সুনাম রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

এরপর দ্বিতীয় পর্বে জনতা কলেজের এনসিসি ও এনএসএস-এর উদ্যোগে ১০০ মিটার দীর্ঘ তিরঙা নিয়ে বিশাল র‍্যালি বের হয়। প্রায় চার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী এই র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখরিত র‍্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে কাবুগঞ্জ বাজার পরিক্রমা করে পুনরায় কলেজে এসে সমাপ্ত হয়।

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে অধ্যাপিকা ড. মুন্নী দেব মজুমদার ও অধ্যাপক সঞ্জিত মুশাহারি-র তত্ত্বাবধানে ‘Partition Horror’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় অংশ নেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা ড. সুদীপ্তা খেরসা। দেশভাগের ইতিহাস, তার সামাজিক অভিঘাত এবং সেই সময়ের মানুষের অভিজ্ঞতা নিয়ে সেমিনারে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে কলেজের উপাধ্যক্ষা সুজাতা পালিত, ড. উষারানী শর্মা, ড. সুদীপ্তা খেরসা, ড. শিরতাজ বেগম লস্কর, ড. মুন্নী দেব মজুমদার, সোমা ভট্টাচার্য, কিংশুক চক্রবর্তী, কুসুমানন্দ নাথ, শ্রীমা নাথ মজুমদার, ড. প্রদীপ সিংহ, ড. রবীন্দ্র সিংহ, সঞ্জিত মুশাহারি, মো. শেহেনুয়াজ সানু-সহ কলেজের অন্যান্য অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কাবুগঞ্জ জনতা কলেজের এই দু’দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চেতনা আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়। স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণ ও কাবুগঞ্জ এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর ও দেশাত্মবোধক পরিবেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *