শিলচর পুরনিগম ভোটে একাধিক অভিযোগ কংগ্রেস নেতার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৯ সেপ্টেম্বর : শিলচর পুরনিগম নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন বরাক উপত্যকা জোনাল কংগ্রেসের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর শাহাদত আহমদ চৌধুরী (স্বপন)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে শাহাদত আহমদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বিভিন্ন উপহার ও সরকারি প্রকল্পের অরুণোদয় ফর্ম বিলির মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে শিলচরের নাগরিকরা এবার এ ধরনের প্রলোভনে প্রভাবিত হবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, পুরনিগম নির্বাচনের মূল আলোচ্য হওয়া উচিত নাগরিক পরিষেবা ও শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন। উন্নত রাস্তাঘাট, নিয়মিত নালা-নর্দমা পরিষ্কার, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত নাগরিক পরিষেবার মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, শিলচর পুরনিগম এলাকার বহু মানুষ এখনও এসব মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।

বেহাল রাস্তাঘাট, পানীয় জলের সমস্যা, নিকাশি ব্যবস্থার দুরবস্থা ও জমে থাকা আবর্জনা নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে পুর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাহাদত। তাঁর দাবি, নাগরিকদের বারবার আবেদন সত্ত্বেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি গত কয়েক বছরের কাজের হিসাবও ভোটারদের বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বিভিন্ন সময় ঋণ নেওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন শাহাদত। তাঁর অভিযোগ, ঋণের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপর পড়ছে।

বরাক উপত্যকায় শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়েও সরব হন তিনি। হিন্দুস্তান পেপার মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁর দাবি, গত এক দশকে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এর ফলে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের সন্ধানে রাজ্যের বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গরমের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ করেন শাহাদত। তাঁর বক্তব্য, সাময়িক সুবিধা বা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও মৌলিক পরিষেবার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে শাহাদত আহমদ চৌধুরীর অভিযোগ সম্পর্কে বিজেপি নেতৃত্ব বা পুর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *