মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ আগস্ট : বাজারিছড়ার ছাগলমোয়া গ্রামের বাসিন্দা তথা বিজেপির বুথ সভাপতি বিকাশ কুমার ধর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হলেন বৃহত্তর কটামণি এলাকার বাসিন্দারা। শনিবার রাতে প্রায় শতাধিক মানুষের স্বাক্ষর-সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বাজারিছড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন এলাকাবাসীর প্রতিনিধিরা। তাঁদের মূল দাবি—নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ আগস্ট বিকাশ কুমার ধরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাজারিছড়া, কটামণি-সহ গোটা শ্রীভূমি জেলায় শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, পরিস্থিতিগত তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কারণ, পরিকল্পনা এবং মূলহোতাদেরও চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বাজারিছড়া থানাধীন বৃহত্তর কটামণি, ঝেরঝেরি, নাগ্রা, ছলামনা, তেজপুর, অলইদউরা-সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের আবেদন জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য, কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত কোনও অপরাধী যাতে তদন্তের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, সেদিকেও পুলিশকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন ঝেরঝেরি জিপির প্রাক্তন সভাপতি তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক, মর্মান্তিক ও নিন্দনীয়। এই ধরনের নৃশংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি রুখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
আব্দুল মান্নান বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে আইনের শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রাখতে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়, সেজন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতায় শান্তি-শৃঙ্খলা ধীরে ধীরে ফিরে আসায় মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, জেলা পুলিশ সুপার নীলা দোলে এবং প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আব্দুল মান্নান-সহ বৃহত্তর এলাকার সচেতন নাগরিকরা। ভবিষ্যতেও শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গুজব বা উত্তেজনায় কান না দিয়ে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসীর প্রতিনিধিরা।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে বাজারিছড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন। পুলিশ জানায়, বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতাসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে কার কীভাবে সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনও ব্যক্তি আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তদন্তে যার বিরুদ্ধেই অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের আশ্বাসের পর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার বার্তা দেওয়া হয়। প্রায় শতাধিক স্বাক্ষর-সম্বলিত স্মারকলিপিতে একটাই দাবি উঠে এসেছে—ন্যায়বিচার চাই, প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি চাই।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ঝেরঝেরি জিপির প্রাক্তন সভাপতি আব্দুল মান্নান, হাজী আব্দুল ফাতাম, জয়নুল আহমেদ, সাকির আহমেদ, আব্দুল মালিক, আনোয়ার হুসেন, তাজ উদ্দিন আহমেদ, জাকির উদ্দিন, আব্দুল মতিন, এহছানুল করিম চৌধুরী, ফজল আহমেদ-সহ আরও অনেকে।



