অসমে নয়া ৮ সমজেলা, স্বাধীনতা দিবসে একাধিক ঘোষণা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৫ আগস্ট : ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অসমে নতুন আটটি সমজেলা গঠনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। প্রশাসনকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি পরিষেবা দ্রুত ও সহজলভ্য করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। নতুন ঘোষিত সমজেলাগুলি হল কামালপুর, বরহমপুর, রাঙনদী, চিচিবরগাঁও, চাবুয়া-লাহোয়াল, খুমতাই, কাটিগড়া এবং বড়খলা। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের ফলে তৃণমূল স্তরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে।

গুয়াহাটির খানাপাড়ায় ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে অসমে পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১.৫০ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজ্যের নিজস্ব সম্পদ থেকে এবং ১ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সড়ক, শিক্ষা, নগরায়ণ ও গ্রামীণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত অসম’ গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর দাবি, গত এক দশকে রাজ্যের অর্থনীতি প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অসম এখন ‘চা থেকে চিপ’-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং উন্নত শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিনের সন্ত্রাস ও অশান্তির পরিস্থিতি সত্ত্বেও পরিকাঠামো, বিনিয়োগ, শিল্প, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে অসম নিজস্ব একটি উন্নয়ন মডেল তৈরি করছে। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যাতে কর্মসংস্থান ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য যুবকদের অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে না হয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বাইহাটা চারিয়ালি-তেজপুর চারলেনের মহাসড়কসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এবং অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে সংযোগ আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এছাড়াও বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধি, গুয়াহাটি বিমানবন্দরের কাছে স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলা এবং অসম পুলিশের জরুরি পরিষেবা ১১২-কে আধুনিকীকরণের মতো উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

নারীর সামাজিক সুরক্ষার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ না করে প্রথম স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে অন্যত্র সংসার শুরু করা সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতনের ২০ শতাংশ কেটে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিত্যক্ত নারীরা আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *