দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১১ আগস্ট : শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের উদ্যোগে ভারতের হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্যতম পথিকৃৎ পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাটখণ্ডের ১৬৬তম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের মুকুন্দদাস ও কালিকা প্রসাদ স্মৃতিমঞ্চে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা অতিরিক্ত জেলা কমিশনার জাগৃতি কলোয়ার, তিন জেলার সাংস্কৃতিক আধিকারিক স্নেয়াংশু শেখর রায়, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা নন্দিনী চক্রবর্তী এবং বিশিষ্ট তবলা বাদক ও শিক্ষক ভাস্কর দাসসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
স্বাগত বক্তব্যে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা নন্দিনী চক্রবর্তী বলেন, পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাটখণ্ডে শুধু একজন সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ। হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিক্ষা, চর্চা ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথি জাগৃতি কলোয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সঙ্গীত শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সঙ্গীত শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাটখণ্ডের অবদান অনস্বীকার্য।
শিক্ষক ভাস্কর দাস বলেন, হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়ে আধুনিক গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে ভাটখণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সঙ্গীতশিক্ষাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তুলতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক আধিকারিক স্নেয়াংশু শেখর রায়ও। পরে একের পর এক একক ও সমবেত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং নৃত্য পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের শিল্পীরা। তাঁদের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। প্রাণবন্ত ও বর্ণময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পণ্ডিত ভাটখণ্ডের জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন সম্পন্ন হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভাস্কর দাস।



