বরাকবঙ্গের জামিরা-ঘাড়মুড়া নয়া আঞ্চলিক সমিতি গঠন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১১ আগস্ট : বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে হাইলাকান্দির জামিরা-ঘাড়মুড়া অঞ্চলে আত্মপ্রকাশ করল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের নয়া আঞ্চলিক সমিতি। শনিবার জামিরা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত এক সভায় ৪১ সদস্যের আঞ্চলিক সমিতি ও ১১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়। সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন সুফিয়ান সিদ্দিকি বড়ভূইয়া এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন বিশুক কর। নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গুলজার হোসেন চৌধুরী, মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী ও পুলক দাশ। প্রশাসনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম লস্কর, সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনুস আহমদ বড়ভূইয়া এবং কোষাধ্যক্ষ দেবাশিস কৈরি।

সভায় সংগঠনের উদ্দেশ্য ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা সভাপতি দীপককান্তি আইচ জামিরা-ঘাড়মুড়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সমিতি গঠনের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অঞ্চলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য পৃথক আঞ্চলিক সমিতি গঠনের প্রয়োজন ছিল। কেন্দ্রীয় সমিতির প্রতিনিধি ড. নিজাম উদ্দিন সমিতির সাংগঠনিক কাঠামো ও গঠনপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন এবং সংগঠনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন। জেলা সম্পাদক দেবদত্ত চক্রবর্তী বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারে বরাকবঙ্গের ভূমিকা এবং নবগঠিত সমিতির প্রাথমিক দুই বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সমিতির সদস্য আলতাফ হোসেন লস্কর এবং জেলা সমিতির উপ-সভাপতি সুরজিত দেব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় মডেল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. সাইদুর রহমান বড়ভূইয়া ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. টিটন রুদ্রপাল। তাঁরা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃত শিক্ষক প্রীতম দেবনাথ প্রাঞ্জল সংস্কৃত ভাষায় বক্তব্য রেখে আশা প্রকাশ করেন, জামিরা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সংলগ্ন মহাবিদ্যালয় ভবিষ্যতে সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি দীপককান্তি আইচ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বদরুল ইসলাম লস্কর (প্যাটেল)। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ‘কবিপ্রণাম’-এর মাধ্যমে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রসঙ্গীত অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও আদর্শকে সামনে রেখে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *