রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৯ আগস্ট : শিলচরের রামনগর থেকে মণিপুরের ইম্ফলের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া পণ্যবাহী গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যতেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী গায়েবের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কাছাড় জেলার ধলাইয়ে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ধলাই থানার পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া সামগ্রীর একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিলচরের রামনগরের একটি ক্যারিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইম্ফলে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী একটি পণ্যবাহী গাড়িতে বোঝাই করা হয়। এএস-২৬-এসি-১১৯৭ নম্বরের গাড়িটির চালক গাড়িভাড়া ও পথখরচ বাবদ মালিকের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গত ৩ আগস্ট রামনগর থেকে ইম্ফলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
অভিযোগ, ফুলেরতল পৌঁছানোর পর নির্ধারিত পথে ইম্ফলের দিকে না গিয়ে গাড়িটি বিন্নাকান্দি হয়ে ধলাই থানার চান্নিঘাট ও রাজনগর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল খালাস করে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে।
নির্ধারিত সময়ে গাড়িটি ইম্ফলে না পৌঁছানোয় ক্যারিয়ার সার্ভিসের মালিকের সন্দেহ হয়। গাড়ির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না মেলায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরে মালামাল গাড়ি থেকে নামিয়ে অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে খবর পেয়ে তিনি ধলাই থানায় বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে ধলাই থানার অফিসার ইনচার্জ সর্বেশ্বর কুয়রের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ইম্ফলে মালামাল না পৌঁছে গাড়ি ও পণ্য সরিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া সামগ্রীর একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
মালিকের হিসাব অনুযায়ী, গাড়িতে ছিল ১ লিটার সরিষার তেলের ৭৫৪ কার্টন, ১ লিটার রাইস ব্র্যান তেলের ৫০ কার্টন, ৫ লিটার সরিষার তেলের ৪০ কার্টন এবং ১৬ কেজির রিফাইন্ড সয়াবিন তেলের ৫০৩ টিন। এছাড়াও উপহারসামগ্রী হিসেবে ছিল ৫০টি ছাতা।
গ্রেফতার হওয়া তিনজন হল রাজনগরের দিলবার হোসেন লস্কর (২৬), চান্নিঘাটের সাইফুল উদ্দিন লস্কর (৩৫) এবং রাজঘাট দ্বিতীয় খণ্ডের নজমুল হোসেন মজুমদার (২৫)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনজনই ধলাই থানার অন্তর্গত এলাকার বাসিন্দা। ঘটনায় ধলাই থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর পরিমাণ, বাকি মালামালের হদিস এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।



