মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ আগস্ট : বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত জনজীবন স্বাভাবিক করা এবং দুর্গত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে যোরহাট সার্কিট হাউসে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু র-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনও পরিবার যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের আধিকারিকদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিকল্প পানীয় জলের ব্যবস্থা, নলকূপ ও জল সরবরাহ প্রকল্প দ্রুত সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জলবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, সেতু, জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং সরকারি সম্পদের পুনর্গঠন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত জনবল, ত্রাণসামগ্রী ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মোতায়েন করা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকদের দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য, ওষুধ, বিশুদ্ধ জল, শিশুখাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ ও পুনর্বাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় বন্যা-সহনশীল পরিকাঠামো, নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে মরিয়ানি বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মি, টিটাবর বিধায়ক ধীরাজ গোয়ালা, যোরহাট বিধায়ক হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী, তেওক বিধায়ক বিকাশ শইকিয়া, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুরজিৎ শইকিয়াসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও জনজীবন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে বৈঠকের শেষে জানানো হয়।



