কুয়ো থেকে উদ্ধার ১২ দিনের নবজাতকের মরদেহ, রাধাপ্যারী গোপালপুরে চাঞ্চল্য

Spread the news

অচেনা এক নারী আমার সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে কুয়োতে ফেলে দিয়েছে’— মায়ের দাবি; রহস্যঘন ঘটনায় জোরদার পুলিশি তদন্ত

মোহাম্মদ জনি শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১ আগস্ট :
শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত রাধাপ্যারী গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর গোপালপুর গ্রামে শনিবার ভোরে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের একটি কুয়ো থেকে মাত্র ১২ দিনের এক নবজাতকের (কন্যাশিশু) মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর নানা জল্পনা-কল্পনায় উত্তাল হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা।

ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে শিশুটির মায়ের বিস্ময়কর দাবি। তাঁর অভিযোগ, গভীর রাতে এক অচেনা নারী ঘরে প্রবেশ করে তাঁর কোল থেকে নবজাতক সন্তানকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পাশের কুয়োতে ফেলে দেয়। অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের ধারণা, ঘটনাটির নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য বা অপরাধমূলক দিকও থাকতে পারে। ফলে বিষয়টি ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

জানা গেছে, মৃত নবজাতকের নাম রাখা হয়েছিল সুস্মিতা দাস। শিশুটির বাবা অরুণ দাস জানান, শনিবার ভোর প্রায় ৩টার দিকে তাঁর স্ত্রী হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে কান্নাকাটি শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী এসে শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে দাবি করে জোর করে কেড়ে নিয়ে বাড়ির পাশের কুয়োতে ফেলে দেয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি বজারিছড়া থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে থানার ওসি খনিন্দ্র নাথের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কুয়োতে তল্লাশি চালিয়ে নবজাতক শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পাথারকান্দি সার্কল অফিসার এবং এসডিপিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন।

পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীভূমি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, শিশুটির মা এখনও দাবি করে চলেছেন যে কোনও অশুভ শক্তি বা অতিপ্রাকৃত ঘটনার কারণেই তাঁর সন্তানকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই দাবিকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মানুষের মতে, ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনও বাস্তব কারণ বা অপরাধমূলক দিক থাকতে পারে, যা পুলিশের তদন্তেই সামনে আসবে।

বর্তমানে পুলিশ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *