পাঁচ দিনের বিরতির পর ফের ইরানে মার্কিন হামলা, উত্তেজনা আরও বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে

Spread the news

৩০ জুলাই : টানা প্রায় পাঁচ দিনের বিরতির পর আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) অনুযায়ী বুধবার রাত ৮টার দিকে নতুন করে এই অভিযান শুরু হয় বলে জানা গেছে। অভিযান শুরুর পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বুধবার মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে একটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে বন্দরের একটি অংশে আগুন লাগে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বাহিনী ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান অভিযান পরিচালনা করছিল।

একই সময়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। মার্কিন পক্ষের দাবি, এসব হামলার পেছনে ছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় দামিয়েত্তা বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিশ্চিত করলেও ড্রোন হামলার বিষয়ে তাদের বিবৃতিতে কোনো উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, নতুন সামরিক অভিযান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “জর্ডানে আমাদের সেনাঘাঁটিতে ইরান হামলা করেছে। এখন আমাদের জবাব দেওয়ার পালা, আর সেই জবাব হবে কঠোর।” তবে একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। তবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী ১৩ দিন পাল্টাপাল্টি হামলার পর ২৫ জুলাই থেকে সাময়িক বিরতি চলছিল।

এদিকে, বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইআরজিসি। একই বিবৃতিতে ওমানের প্রস্তাবিত হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে তেহরান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *