২৫ জুলাই : দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার দাবি করে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের দাবি, তাদের উত্থাপিত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ দাবিই কেন্দ্র সরকার নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। এর ফলে দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রায় এক মাস ধরে চলা আন্দোলনের ইতি ঘটল।
শুক্রবার কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়। সেগুলির মধ্যে ছিল— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা, এবং নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা করে আর্থিক সহায়তা। পাশাপাশি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ দফা প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। বৈঠকের পর জেপি নাড্ডা জানান, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। দিল্লি ও বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে এই আন্দোলনের জেরে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবির প্রসঙ্গে কেন্দ্র জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী যতটা সম্ভব আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কেন্দ্র। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেপি নাড্ডা।
সরকারের লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতেই আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের দাবি, আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ায় আপাতত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হচ্ছে।



