২১ জুলাই : সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় অন্তত ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর থেকেই টানেলের ভিতরে বহু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, এখনও অন্তত ২৭ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই প্রশাসন, পুলিশ, দমকল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস লিক হওয়ায় উদ্ধারকাজে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাসের উপস্থিতির কারণে উদ্ধারকারী দলের কয়েকজন সদস্যও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
রাতভর চলা অভিযানে প্রথমে সাতটি এবং পরে আরও দুটি দেহ উদ্ধার করা হয়। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯-এ। আহত ও উদ্ধার হওয়া ১৬ জন শ্রমিককে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এনএইচপিসির স্টেজ-৬ প্রকল্পের আওতায় টানেল নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকা পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে সুড়ঙ্গের মুখ সম্পূর্ণভাবে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যায়। ফলে টানেলের ভিতরে থাকা শ্রমিকরা বেরিয়ে আসতে পারেননি। খননযন্ত্র ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির দাবি, সুড়ঙ্গের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে মিথেন গ্যাস জমে থাকতে পারে। তাই ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে ধাপে ধাপে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমে টানেলের ভিতরের বাতাসের গুণমান পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই উদ্ধারকারী দলকে আরও গভীরে পাঠানো হবে।
ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



