দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ২১ জুলাই : বরাক উপত্যকার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শৈব তীর্থক্ষেত্র ভুবন পাহাড়ে শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল। ভোরের আলো ফোটার আগেই কাছাড়, হাইলাকান্দি, শ্রীভূমিসহ বরাক উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী ও প্রবীণ ভক্তরা দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে বাবা ভুবনেশ্বরের দর্শনের উদ্দেশ্যে ভুবন চূড়ার পথে যাত্রা শুরু করেন।
সোমবার দিনভর পাহাড়জুড়ে ধ্বনিত হয় ‘হর হর মহাদেব’ জয়ধ্বনি। সেই ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র ভুবন তীর্থ এলাকা। প্রবল বৃষ্টিও ভক্তদের উৎসাহ ও ধর্মীয় বিশ্বাসে কোনও ভাটা ফেলতে পারেনি। বরং বৃষ্টিস্নাত সবুজ পাহাড়, মেঘে মোড়া চূড়া, কুয়াশার আবরণ এবং শীতল পরিবেশ তীর্থযাত্রাকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে।
ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রাবণ মাসে মহাদেবের আরাধনা করলে জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয় এবং পরিবারে শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি নেমে আসে। সেই বিশ্বাস থেকেই বহু ভক্ত বাবা ভুবনেশ্বরের চরণে ফুল, বেলপাতা ও অন্যান্য পূজার সামগ্রী নিবেদন করেন। অনেককেই পাহাড়ে ওঠার পথে মহাদেবের নামজপ, স্তোত্রপাঠ ও ভক্তিগীত গাইতে দেখা যায়।
সাধারণভাবে ভুবন তীর্থে মহাশিবরাত্রি বা শিব চতুর্দশীর মেলায় সর্বাধিক ভিড় হলেও, শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবারেও এখানে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির টানেই প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ এই দুর্গম পথ অতিক্রম করে তীর্থদর্শনে আসেন।
ভুবন পাহাড় শুধু একটি ধর্মীয় তীর্থ নয়, বরং বরাক উপত্যকার শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। শ্রাবণের প্রথম সোমবারে বৃষ্টিভেজা প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য ও ভক্তদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধায় ভুবন তীর্থ যেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে, যা ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।



