বরাক তরঙ্গ, ২০ জুলাই, সোমবার,
বরাক উপত্যকার দুই জেলা হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমিতে বিশুদ্ধ পানীয়জলের সঙ্কট আর সাময়িক সমস্যা নয়; এটি আজ জনজীবনের অন্যতম বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি ও সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ এখনও নিরাপদ পানীয়জলের জন্য চরম দুর্ভোগের শিকার। শহর থেকে গ্রাম—প্রায় সর্বত্রই একই চিত্র। তাই এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে সরকারের কার্যকর, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
হাইলাকান্দি শহরে দীর্ঘদিন ধরে পানীয়জল সরবরাহ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চললেও তার সমাপ্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে নাগরিকদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায়ও প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বহু জল সরবরাহ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব প্রকল্প দ্রুত সচল না হলে সরকারি অর্থ ব্যয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য দু’টিই প্রশ্নের মুখে পড়ে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
শুধু হাইলাকান্দিই নয়, শ্রীভূমি জেলার অবস্থাও উদ্বেগজনক। বহু গ্রাম পঞ্চায়েতে পানীয়জল প্রকল্প বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। লাতু-সজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে নয়টি প্রকল্পের মধ্যে আটটিই দীর্ঘদিন ধরে অচল। এ নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সভাপতিকেও মন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে হয়েছে। একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের এমন অবস্থা হলে গোটা জেলার বাস্তব চিত্র কতটা ভয়াবহ, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এতে স্পষ্ট, জল জীবন মিশনের লক্ষ্য অনেক ক্ষেত্রেই এখনও বাস্তবে রূপ পায়নি।
বিশুদ্ধ পানীয়জল মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই এখন আর নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন দ্রুত ও দৃশ্যমান কাজ। অসম সরকারকে অবিলম্বে হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমির সব অচল জল প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেগুলি সচল করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে প্রতিটি পরিবারের কাছে নিরাপদ পানীয়জল পৌঁছে দেওয়াই হওয়া উচিত সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বরাকের মানুষ আর আশ্বাস শুনতে চায় না। তারা দেখতে চায় বাস্তব পদক্ষেপ, জবাবদিহি এবং এমন এক প্রশাসনিক উদ্যোগ, যা তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে। বিশুদ্ধ পানীয়জলের সংকট দূর করা আজ কেবল উন্নয়নের প্রশ্ন নয়, এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা রক্ষারও প্রশ্ন।



