২২ আগস্ট : মালবাহী জাহাজে রাশিয়া থেকে তেল নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ভারতে আসছিলেন ক্যাপ্টেন অজয় পন্থ। কিন্তু রুশ তেলের উপরে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ব্রিটিশ জলসীমায় প্রবেশ করা মাত্র আটক করা হয় তাঁকে। তার পর থেকে ব্রিটেনের হেফাজতে রয়েছেন অজয়। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন অজয়ের স্ত্রী ঋতু পন্থ। তাঁর দাবি, ‘আমার স্বামীকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।’
মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুন রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ‘স্মির্টোস’ নামের একটি জাহাজ। বাল্টিক সাগর হয়ে তার গন্তব্য ছিল মিশরের পোর্ট সইদ। সেখান থেকে গুজরাটের বন্দর। ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময়ে ব্রিটিশ কম্যান্ডোরা জাহাজটি আটক করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার এই অভিযানকে ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে বড় আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ওই জাহাজেরই ক্যাপ্টেন ছিলেন অজয়।
ব্রিটিশ কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অজয় ছিলেন জাহাজটির ‘মাস্টার’। জাহাজে থাকা প্রায় ৯৮ হাজার টন তেলের বিষয়ে তিনি জানতেন। তবে অজয়ের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, জাহাজের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে ক্যাপ্টেন ‘শুধু নির্দেশ মেনে চলছিলেন’। গত মাস দু’য়েক ধরে এই নিয়ে শোরগোল চললেও এতদিন মুখ খোলেনি অজয়ের পরিবার। অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তাঁর স্ত্রী। এএফপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতু দাবি করেছেন, অজয়ের দায়িত্ব ছিল নিরাপদে জাহাজ ও পণ্য নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।
এখনও জামিন পাননি অজয়। কারাগারে তিনি চরম মানসিক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন দাবি করে ঋতু বলেন, ‘আমার স্বামীকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। ভুল সময়ে, ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিলেন।’ অজয়ের গ্রেপ্তারির পরে তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন ঋতু। সেই কথা মনে করে তিনি বলছেন, ‘খালি কাঁদছিল। ওর সঙ্গে কী ঘটেছে সেটাই বুঝতে পারছিল না।’
ভারতীয় কনস্যুলার আধিকারিকেরা ইতিমধ্যেই অজয়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। জাহাজের ২৫ জন ক্রু সদস্যের মধ্যে একমাত্র অজয়ের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। বাকি ২৪ জনের অধিকাংশই ইতিমধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন। ‘স্মির্টোস’ এখনও ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে নোঙর করে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ ২০ হাজার জন এই পেশায় যুক্ত। তাঁরাও উদ্বিগ্ন।
খবর : এইসময় অনলাইন।



