১৩ জুলাই : ভারী বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানীতে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বোচ্চ ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ দেশের ছয় বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। রবিবার সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তেই রাজধানীর বনানী, খিলক্ষেত, ঢাকা গেট, কাকলী মোড়, প্রগতি সরণি ও বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে যায়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচে জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যমুনা ফিউচার পার্ক সংলগ্ন সড়কেও পানি জমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রতিবারের মতো এবারও হাঁটু থেকে কোমরসমান জলে তলিয়ে যায় প্রধান সড়ক, অলিগলি, আবাসিক এলাকা, বাজার, হাসপাতালের সামনের রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এতে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে, গত চার বছরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ২৬২ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করে ৩৩৪ কিলোমিটারের বেশি ড্রেন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ করলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে তেমন সুফল মিলছে না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয় ঢাকার ২০.৫৭ শতাংশ এলাকা জলাশয় থাকলেও ২০২৩ সালে তা কমে মাত্র ২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে সবুজ এলাকার পরিমাণও ২২ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) ২০২৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দখল হওয়া মাত্র ১৫টি খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে রাজধানীর প্রায় ৮০ শতাংশ পুনরাবৃত্ত জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব। সংস্থাটি রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, ধানমন্ডি, গ্রিন রোড, রামপুরা, বাড্ডা, পুরান ঢাকা ও জুরাইনসহ নয়টি এলাকাকে জলাবদ্ধতার প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে।



