কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ৭ জুলাই : নাগা–কুকি সংঘাতের জেরে প্রায় এক মাস ধরে ইম্ফল–ডিমাপুর সড়কে অর্থনৈতিক অবরোধ (ইকোনমিক ব্লকেড) চলায় মণিপুরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অভিযোগ, খাদ্যসামগ্রী, রান্নার গ্যাস, পেট্রোল–ডিজেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কুকি অধ্যুষিত এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সেখানে প্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে শিলচর–ইম্ফল ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কই ছিল মণিপুরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সড়কটিও বন্ধ রয়েছে। আগে এই সড়ক দিয়ে মাসে প্রায় এক হাজার মালবাহী ট্রাক চলাচল করলেও বর্তমানে চাপ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আট থেকে দশ হাজার গাড়িতে।
সড়ক বন্ধ থাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে ফুলেরতল বাইপাস থেকে জিরিঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে মালবাহী লরি, পেট্রোল ও ডিজেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ প্রায় দুই হাজার যানবাহন। ফলে ইম্ফলগামী চালকরা যাত্রা শুরু করতে পারছেন না।
জানা গেছে, ধসপ্রবণ এলাকায় যানবাহন পারাপারের কাজে ব্যবহৃত ক্রেনটিও বিকল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এসকর্টের সমস্যাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় আটকে থাকায় চালক ও সহকারীরা পানীয় জল ও খাদ্য সংকটে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এই সংকট নিরসনে মঙ্গলবার লক্ষীপুর থানায় যৌথ বৈঠকে মিলিত হন অসম ও মণিপুরের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাছাড়ের জেলা কমিশনার রাহুল কুমার গুপ্তা, পুলিশ সুপার সঞ্জীব কুমার শইকিয়া, লক্ষীপুরের সিডিএসপি পৃথ্বীরাজ রাজখোঁয়া, মণিপুরের জিরিবাম জেলার জেলাশাসক অরবিন্দ হাঙলেম (আইএএস) এবং পুলিশ সুপার প্রখর পাণ্ডে (আইপিএস)।
লক্ষীপুর থানার সম্মেলন কক্ষে লরি চালকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে কর্মকর্তারা ফুলেরতল থেকে জিরিঘাট পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি পরিদর্শন করেন। পরে তারা জিরিবামেও গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে দুই রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) পর্যায়েও আলোচনা হবে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।



