মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ জুলাই : শ্রীভূমি জেলার অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবায় দীর্ঘদিনের কর্মী সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং শিশু পুষ্টি কর্মসূচির খাদ্য বণ্টন নিয়ে আসাম বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরীর উত্থাপিত অতারকিত প্রশ্নের উত্তরে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অজন্তা নেওগ জানান, জেলায় বর্তমানে মোট ৪৯৬টি অঙ্গনওয়াড়ি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর ২১৬টি এবং সহায়িকার ২৮০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, অবসর, স্বেচ্ছা অবসর এবং কর্মরত কর্মী-সহায়িকাদের মৃত্যুর কারণে এই পদগুলি শূন্য হয়েছে। তবে কোন পদ কতদিন ধরে খালি রয়েছে, সেই সংক্রান্ত পৃথক তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত নেই।
বিধায়ক নবগঠিত দক্ষিণ করিমগঞ্জ সিডিপিও এলাকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এখনও পাথারকান্দি সিডিপিওর অধীনে পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান, এর ফলে Supplementary Nutrition Programme (SNP) ও Hot Cooked Meal (HCM)-এর সরবরাহে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না।
সরকারি উত্তরে জানানো হয়, আইসিডিএস প্রকল্পভিত্তিক নিয়ম মেনেই খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলার সাতটি আইসিডিএস প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ Hot Cooked Meal (HCM) ও Take Home Ration (THR) সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাথারকান্দি প্রকল্পে ২৪.২৯ কোটি গ্রাম HCM ও ৩৩.২০ কোটি গ্রাম THR, দক্ষিণ করিমগঞ্জ প্রকল্পে ১৬.৫৩ কোটি গ্রাম HCM ও ৩৮.২৭ কোটি গ্রাম THR এবং লোয়াইরপোয়া প্রকল্পে ১৬.৬৪ কোটি গ্রাম HCM ও ২২.২২ কোটি গ্রাম THR বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বদরপুর, দুল্লাভছড়া, উত্তর শ্রীভূমি ও রামকৃষ্ণনগর প্রকল্পেও নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।
খাদ্যসামগ্রী বণ্টনে অনিয়ম বা অপব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দক্ষিণ করিমগঞ্জ সিডিপিও এলাকায় এ ধরনের কোনও লিখিত অভিযোগ সরকারের কাছে জমা পড়েনি।
তবে বিধানসভায় প্রকাশিত তথ্যকে ঘিরে জেলাজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও শিশু অধিকার কর্মীদের মতে, জেলার ১,৫৭০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য ৪৯৬টি শূন্যপদ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের দাবি, শিশু পুষ্টি, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মান বজায় রাখতে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং খাদ্য বণ্টনে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।



