শতবর্ষী ঐতিহ্যের অবসান, নিরাপত্তার স্বার্থে কাটা পড়ল নিকামা স্কুলের বটবৃক্ষ

Spread the news

দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুলাই:
ধলাই বিধানসভা এলাকার গঙ্গানগরস্থিত নিকামা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় শতবর্ষী একটি ঐতিহ্যবাহী বটবৃক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে কেটে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকা এই বৃক্ষ অপসারণের ঘটনায় প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নেমে এসেছে আবেগঘন পরিবেশ।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এই বৃক্ষটি শুধু একটি গাছ ছিল না; এটি ছিল এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অসংখ্য স্মৃতির নীরব সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শৈশব, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার স্মৃতি, বন্ধুদের আড্ডা এবং অভিভাবকদের অপেক্ষার অসংখ্য মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এই বৃক্ষ।

প্রতিদিন পথচারীদের ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টির সময়ও এটি আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি নানা প্রজাতির পাখি ও ছোট প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত গাছটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় বৃক্ষটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। যেকোনো সময় বড় ডাল ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকায় জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গাছটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্তটি জরুরি হলেও শতবর্ষের ঐতিহ্য হারানোর বেদনা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি এলাকাবাসী।

পরিবেশপ্রেমীদের মতে, একটি শতবর্ষী বৃক্ষ পরিবেশের অমূল্য সম্পদ। এমন গাছ অক্সিজেন সরবরাহ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখা, ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এমন একটি বৃক্ষের শূন্যতা পূরণ করতে বহু বছর সময় লাগে।

এলাকাবাসীর আশা, নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশে দেশীয় প্রজাতির নতুন বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁদের বিশ্বাস, নতুন সবুজই একদিন হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের স্মৃতিকে নতুনভাবে বাঁচিয়ে রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *