মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ জুলাই: অসম বিধানসভার চলমান বাজেট অধিবেশনে মঙ্গলবার জল জীবন মিশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। মানকাচর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মহিবুর রহমানের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) দপ্তরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল জানান, রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের কাছে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, জল জীবন মিশনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জনসেবার মান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, জল জীবন মিশনের মূল লক্ষ্য প্রতিটি পরিবারকে নিরাপদ পানীয় জলের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য জল সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে অসমের বিভিন্ন জেলায় একাধিক প্রকল্প দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বহু গ্রামে বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, নিরাপদ পানীয়জল নিশ্চিত করা শুধু একটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নয়, এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তাই প্রকল্পগুলির গুণগত মান বজায় রাখা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, জল উৎস সংরক্ষণ এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপরও সরকার জোর দিচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি টেকসই জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষ নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশুদ্ধ পানীয় জল পান। শহর ও গ্রামের মধ্যে পরিষেবার বৈষম্য দূর করে প্রত্যন্ত এলাকাতেও সমানভাবে জল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, জল জীবন মিশনের সফল বাস্তবায়নের ফলে জলবাহিত রোগ কমবে, নারীদের জল সংগ্রহের কষ্ট লাঘব হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিধানসভায় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে অসম সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপদ পানীয় জল, শক্তিশালী অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগিয়ে চলেছে।



