ঘোষিত বিদেশিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৫ জুলাই : দীর্ঘ কয়েক দশক পর আবারও ১৯৫০ সালের ‘ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করে বিস্বনাথ জেলা প্রশাসন এক ঘোষিত বিদেশিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গত ২ জুলাই জারি হওয়া এক নির্দেশে বিস্বনাথের জেলা কমিশনার করবী শইকিয়া করণ শোণিতপুর জেলার খেরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা, প্রয়াত অজিত আঞ্চারির পুত্র কায়াম আনসারিকে (আঞ্চারি) নির্দেশ দেন, আদেশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শ্রীভূমি, ধুবড়ি অথবা দক্ষিণ সালমারা সীমান্ত পথ দিয়ে আসাম তথা ভারতের ভূখণ্ড ত্যাগ করতে হবে।

জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত সীমান্ত পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্টের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের এক মামলায় বিদেশি ট্রাইব্যুনাল কায়াম আনসারিকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ২৮ মে তাকে আটক করা হয় এবং এরপর থেকে তিনি মাতিয়া ট্রানজিট ক্যাম্পে রয়েছেন। সীমান্ত পুলিশ জেলা প্রশাসনকে জানায়, তাকে ঘিরে কোনও আদালতে মামলা, রিট পিটিশন বা অন্য কোনও আইনি প্রক্রিয়া বিচারাধীন নেই। ফলে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই।

নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি স্বেচ্ছায় দেশ না ছাড়লে ১৯৫০ সালের ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় সরকার তাকে আসাম থেকে বহিষ্কার করবে।

এছাড়া সীমান্ত পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্টকে প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসামে অভিবাসন মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ১৯৫০ সালে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকে এই আইনের ব্যবহার খুবই বিরল। বর্তমান নির্দেশটি সেই বিরল ঘটনাগুলির অন্যতম।
এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে শোণিতপুর জেলা প্রশাসন একই আইনের আওতায় পাঁচজন ঘোষিত বিদেশিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শ্রীভূমি, ধুবড়ি এবং দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলাগুলিকে এ ধরনের বহিষ্কার কার্যকর করার জন্য নির্ধারিত সীমান্ত রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *