বরাক তরঙ্গ, ২ জুলাই : কাটলিছড়া সার্কলের অন্তর্গত গারদপুঞ্জি আজ “আনারসের স্বর্গপুরী” হিসেবেই অধিক পরিচিত। কয়েক দশকের ঐতিহ্য ধরে রেখে এই অঞ্চলে উৎপাদিত আনারস এখন শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেই নয়, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের নানা প্রান্তে এবং বিদেশের বাজারেও রপ্তানি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছর আগে গারদপুঞ্জিতে আনারস চাষের সূচনা হয়। সেই থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই অঞ্চলে আনারস চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে এখানকার সুস্বাদু আনারস দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সমাদৃত।
প্রতি বছর মে মাস থেকে আনারস বাজারজাতকরণ শুরু হয়। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসজুড়ে চলে পূর্ণোদ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম। এই সময় প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই লক্ষ থেকে আড়াই লক্ষ আনারস দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।
একজন আনারস চাষি জানান, একবার আনারসের চারা রোপণ করলে সেই গাছ বহু বছর ধরে ফলন দেয়। গাছের নির্দিষ্ট আয়ু না থাকলেও ভালো উৎপাদনের জন্য বছরে তিন থেকে চারবার জমি পরিষ্কার ও নিয়মিত পরিচর্যা করা অত্যন্ত জরুরি।
শুধু গারদপুঞ্জিই নয়, সংলগ্ন কালিদাসপুঞ্জিতেও ব্যাপক হারে আনারস চাষ হয়। সেখানকার উৎপাদিত আনারসও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
বাগান মালিকদের দাবি, আনারস চাষ, পরিচর্যা, সংগ্রহ, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার পরিবার। ফলে এই আনারস শিল্পই এলাকার বহু মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
আনারসের পাশাপাশি গারদপুঞ্জি থেকে কাঁঠাল, সুপারি-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হলেও, এই অঞ্চলের মূল পরিচয় হয়ে উঠেছে আনারস উৎপাদন।
প্রতিদিন লক্ষাধিক আনারসের রপ্তানি, কয়েক দশকের ঐতিহ্য এবং হাজারো পরিবারের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন—সব মিলিয়ে গারদপুঞ্জি আজ সত্যিকার অর্থেই ‘আনারসের স্বর্গপুরী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।



