বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : মেঘালয় অ্যান্টি-নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (এএনটিএফ) সোমবার শিলংয়ের লামসার্ভে এলাকায় একটি মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে সন্দেহভাজন হেরোইন এবং মাদক সেবন ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এএনটিএফের একটি দল লামসার্ভে এলাকায় ওত পেতে অভিযান চালায়। ২২ জুন পরিচালিত ওই অভিযানে দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবিত পদার্থ নিয়ন্ত্রণ আইন (এনডিপিএস)-এর বিধান অনুসারে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের সাবানের কেসে রাখা ১৬.১ গ্রাম ওজনের সন্দেহভাজন হেরোইন, হেরোইন ভর্তি বলে সন্দেহ করা ৪৭টি রঙিন শিশি (ভায়াল) এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হল— সাবিনা বেগম (২১), ওমেগা আলির স্ত্রী। তিনি শিলংয়ের লামসার্ভে এলাকার বাসিন্দা হলেও তাঁর স্থায়ী ঠিকানা অসমের তেজপুরের শোণিতপুর থানার অন্তর্গত সামধরা এলাকার ৫ম মাইল। অপর অভিযুক্ত বিরু সিং (৪০), প্রয়াত তারু সিংয়ের পুত্র। তিনি শিলংয়ের বড়বাজার এলাকার পাঞ্জাবি লাইনে, বিকে সন্স বেকারির বিপরীতে বসবাস করেন।
ঘটনার পর শিলং সদর থানায় এনডিপিএস আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ, গ্রেফতার দুই ব্যক্তি শিলংয়ে সক্রিয় একটি বৃহত্তর সংগঠিত অপরাধচক্রের সদস্য এবং স্থানীয় মাদক পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত।
এএনটিএফের পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার এক বিবৃতিতে জানান, “চক্রটির সামনের ও পেছনের সংযোগগুলো চিহ্নিত করতে আরও তদন্ত চালানো হচ্ছে।”
এএনটিএফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে লামসার্ভে এলাকা মাদক পাচারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে মাদক পাচার সংক্রান্ত তিনটি মামলা এনডিপিএস আইনে নথিভুক্ত হয়েছে। এসব মামলায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশেরই স্থায়ী বাসস্থান অসমে।
অভিযানগুলিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হেরোইনের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক খালি ভায়াল ও সিরিঞ্জও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, লামসার্ভে এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ডের ওপর এএনটিএফ কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে এবং মাদক পাচার ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে তারা বদ্ধপরিকর।



