মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ জুন : ইচাবিল চা-বাগান এলাকাস্থ ৭৪৫ নং ইচাবিল প্ৰাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আসাম সরকারের ‘সম্প্ৰীতি ভোজন সপ্তাহ’ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য সম্প্ৰীতি ভোজন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পড়ুয়া, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইচাবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্ৰী সবিতা কুর্মি, লোয়াইরপোয়া জেলা পরিষদের সদস্য স্বপন দাস, বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি কুঞ্জবিহারী গোয়ালা, সমিতির সদস্য-সদস্যা, অভিভাবকমণ্ডলী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।সম্প্ৰীতি ভোজনের সূচনালগ্নে অতিথিবৃন্দ আসাম সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য স্বপন দাস এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃন্ময় নাথ জানান, রাজ্য সরকারের পিএম পোষণ প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত ‘সম্প্ৰীতি ভোজন’ একটি সমাজমুখী ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি, যা ১৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে।তাঁরা বলেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা এবং সমাজের মানুষকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতির চেতনা গড়ে তোলাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

অতিথিরা আরও উল্লেখ করেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সুষম পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে তারা অল্প বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার শিক্ষা লাভ করতে পারে।ইচাবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্ৰী সবিতা কুর্মি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ ও সমাজের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের গুণগত শিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক বিকাশের জন্য পুষ্টিসম্মত আহার এবং সামাজিক সচেতনতার বিকাশও সমানভাবে প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে শিশুদের সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষানুরাগী মহল, অভিভাবক ও পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। পরে অতিথিবৃন্দ নিজ হাতে সারিবদ্ধভাবে বসা ছাত্র-ছাত্রীদের খাবার পরিবেশন করেন এবং তাদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান।অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেন উপস্থিত অতিথি ও বিশিষ্টজনেরা। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।সম্প্ৰীতি ভোজন ও বৃক্ষরোপণের মতো দুটি ইতিবাচক কর্মসূচির সফল আয়োজন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।



