রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ উল আজহা, প্রস্তুতি চূড়ান্ত শ্রীভূমি জেলায়

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ মে : আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ উল আজহা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শ্রীভূমি জেলার সর্বত্র এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জেলার চারটি বিধানসভা এলাকার প্রতিটি মুসলিম অধ্যুষিত মহল্লা, মসজিদ ও ঈদগাহ রঙিন সাজে সেজে উঠেছে। ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে বাজারও। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে তৎপর হয়ে উঠেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।
প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদ উল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহত্তর পাথারকান্দি, রাতাবাড়ি, কাজিরবাজার, বদরপুর, নিলামবাজার, আছিমগঞ্জ, কাঠালতলি, ফকিরবাজার, কটামনি, ভাঙ্গা ও মুল্লাগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ।

ইতোমধ্যে এলাকার প্রতিটি মসজিদ, ঈদগাহ ময়দান ও মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর আলোকসজ্জা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত করা হয়েছে। বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠের প্রবেশপথে নির্মাণ করা হয়েছে আকর্ষণীয় তোরণ, যেখানে লেখা রয়েছে “ঈদ মোবারক” ও নানা শুভেচ্ছাবার্তা। সন্ধ্যা নামতেই আলোর ঝলকানিতে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন পালনের আগ্রহও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে জেলার ছোট-বড় বাজারগুলোতেও এখন উপচে পড়া ভিড়। জেলা সদর ছাড়াও গ্রামীণ বাজারগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটার ধুম। কটামনি বাজার, কাজিরবাজার, পাথারকান্দি, রামকৃষ্ণনগর, বদরপুর ও দক্ষিণ করিমগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বিপণিবিতান ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে নতুন জামাকাপড়, জুতা, আতর, টুপি, প্রসাধনী, সেমাই ও ঈদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ।

বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ঈদের আনন্দ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। নতুন পোশাক পরে ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় তারা এখন থেকেই উচ্ছ্বসিত। মেয়েদের ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে পোশাক ও প্রসাধনীর দোকানে। অন্যদিকে পুরুষদের ব্যস্ততা টুপি, পাঞ্জাবি ও আতরের দোকানে। বাজারে সুরমা, আতর ও বিভিন্ন সুগন্ধি সামগ্রীর দোকানেও ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ঈদের বাজারে বেচাকেনা বেশ ভালো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরকষাকষি ও কেনাবেচার ব্যস্ততায় বাজারগুলো প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক ক্রেতাকে কিছুটা ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, ঈদ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছে প্রশাসন। ঈদের বাজার, মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানগুলোতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং যানজট সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার নীলা দোলে এবং জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ কুমারের নির্দেশে জেলার প্রতিটি থানার পুলিশ বাজার এলাকা ও ঈদগাহ ময়দানে কড়া নজরদারি ও টহলদারির ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি ঈদের দিন অতিরিক্ত পুলিশ ও ভিডিপি কর্মী মোতায়েন থাকবে বলেও জানা গেছে।

প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। কটামনি বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” একইসঙ্গে তিনি এলাকাবাসীকে আন্তরিক ঈদ শুভেচ্ছাও জানান।

অন্যদিকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বৃহস্পতিবার সকালবেলার পবিত্র ঈদ উল আজহার দুই রাকাত নামাজ আদায়ের জন্য। জেলার বিভিন্ন প্রধান ঈদগাহ ও মসজিদে বিশিষ্ট ইসলামিক পণ্ডিত, ইমাম ও মওলানারা ঈদের নামাজ পরিচালনা করবেন। নামাজ শেষে বিশ্বশান্তি, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মতে, ক্লেশ, বিদ্বেষ ও বিভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ঈদ উল আজহার মূল শিক্ষা। সব মিলিয়ে সীমান্তবর্তী শ্রীভূমি জেলার সর্বত্র এখন ঈদের আনন্দ, উৎসবের উচ্ছ্বাস ও ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে উঠেছে জনজীবন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *