খুলিবস্তি কোণাটিলায় ভাঙাচোরা রাস্তা, শিক্ষা, পানীয়জল সঙ্কটে বিপর্যস্ত জনজীবন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৪ জুন : দেশের স্বাধীনতার ৭৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও মৌলিক পরিকাঠামোর অভাবে এখনও চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মাছিমপুর জিপির নবম খণ্ডের খুলিবস্তি কোণাটিলা এলাকার বাসিন্দারা। প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাসকারী এই জনপদে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষার অনুপযুক্ত পরিবেশ এবং নিরাপদ পানীয়জলের সংকট জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান সড়কটি বহু বছর ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতি মা ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে এই দুরবস্থা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

শিক্ষাক্ষেত্রেও অবকাঠামোগত অনুন্নয়নের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এলাকার ছাত্রছাত্রীদের ৫১ নম্বর খরিল চা-বাগান বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে প্রায় ছয় কিলোমিটার দুর্গম ও জঙ্গলঘেরা পথ অতিক্রম করতে হয়। ফলে বহু শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে না পেরে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, পানীয়জলের সংকটও দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের (পিএইচই) জল সরবরাহ প্রকল্প থাকলেও গত ছয় মাস ধরে পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনার পর থেকেই বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে বাসিন্দাদের টিলার নিচে নেমে ঝরনা ও কূপ থেকে জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ, স্বাধীনতার এত বছর পরেও উন্নয়নের মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তারা। তাদের কথায়, ‘‘মনে হয় যেন এই গ্রাম এখনও উন্নয়নের মানচিত্রের বাইরে রয়ে গেছে।’’
সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের দাবিতে এলাকার বহু বাসিন্দা রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁরা বিশেষভাবে মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়ক এবং জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত রাস্তা সংস্কার, শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পানীয়জলের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *