মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১১ জুন : বকেয়া মজুরি পরিশোধ, চাকরি নিয়মিতকরণ, শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) দফতরের অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীরা বিভাগীয় মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের দ্বারস্থ হয়েছেন। বুধবার দিসপুরে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সারা অসম পিএইচই অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী পরিষদের প্রতিনিধিরা তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
সংগঠনের অভিযোগ, বছরের পর বছর পিএইচই-র বিভিন্ন জল প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও হাজার হাজার অস্থায়ী কর্মী এখনও অনিয়মিত বেতন, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে তাঁদের অবদান অপরিসীম হলেও সেই অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত।
পরিষদের দাবি, বহু কর্মী প্রথমে কেয়ারটেকার ও ভলান্টিয়ার হিসেবে এবং পরে ‘স্ব-জলমিত্র’ হিসেবে কাজ করলেও তাঁদের চাকরি এখনও স্থায়ী হয়নি। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন বিনা বেতনে কাজ করার পর ২০১৪ সালে মাত্র ৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। সেই সামান্য পারিশ্রমিক নিয়েই তাঁরা গ্রামাঞ্চল-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয়জল সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
সংগঠনের বক্তব্য, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মীরা পরিষেবা চালিয়ে গিয়েছিলেন। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া, জল প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান এবং মাঠপর্যায়ে পরিষেবা সচল রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। তবে তাঁদের এই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন এখনও হয়নি বলে অভিযোগ।

দীর্ঘ আন্দোলন ও বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি উত্থাপনের পর ২০২২ সালে জলজীবন মিশনের আওতায় কর্মীদের মাসিক ৬,৫০০ টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন পিএইচই মন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়ার উদ্যোগে আরও ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে মাসিক ৭,৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পেলেও বেতন বকেয়া, চাকরির স্থায়িত্ব এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
পরিষদের অভিযোগ, রাজ্যের বহু এলাকায় স্ব-জলমিত্রদের বেতন মাসের পর মাস বকেয়া থাকে। সময়মতো বেতন না পাওয়ায় অনেক কর্মী চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অথচ শ্রম আইন অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিকের মর্যাদা ও উপযুক্ত মজুরি পাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংগঠন মন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—পূর্ব থেকে কর্মরত কেয়ারটেকারদের সমস্ত বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধ, চাকরি নিয়মিতকরণ, আইটিআই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্ব-জলমিত্রদের পিএইচই দফতরের আওতায় এনে দক্ষ শ্রমিকের মর্যাদা ও মজুরি প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা ও বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বেতন প্রদানে অনিয়ম ও বিলম্বের স্থায়ী সমাধান।
পরিষদের সভাপতি দেবকুমার শর্মা ও সম্পাদক বাপন নমশূদ্র স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত পানীয় জল পরিষেবা সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করলেও অস্থায়ী কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অনিশ্চয়তার শিকার। তাই তাঁদের সমস্যাগুলি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী তাঁদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে রাজ্যের পানীয়জল পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এই কর্মীদের প্রতি সরকার ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল মনোভাব গ্রহণ করবে বলেও তাঁরা



