১১ জুন : মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় সিরিক, মিনাব, বন্দর আব্বাস ও গোরগান-সহ একাধিক এলাকায় প্রবল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরানও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাত্র একদিনেই ৪৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি ছাড়াও কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এবং ওই জলপথ অতিক্রমকারী জাহাজগুলির বিরুদ্ধে হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, তা না হলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে। যদিও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনার দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সংঘাত কেবল আঞ্চলিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিন মাস ধরে চলা উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।



