তৃণমূলে বড় ভাঙনের জল্পনা, বিদ্রোহী শিবিরে সায়নী ঘোষের নাম ঘিরে চাঞ্চল্য

Spread the news

১০ জুন : রাজনীতির অঙ্কে অনিশ্চয়তা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলীয় সমীকরণে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। এমনই এক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সায়নী ঘোষকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে চলা সংকটের আবহে সায়নী ঘোষ বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। যদিও এ বিষয়ে তিনি এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি, তবুও তাঁর অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সূত্রের খবর, যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ সেই ২০ জন সাংসদের মধ্যে রয়েছেন, যাঁরা বিধানসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের পর সংসদে পৃথক গোষ্ঠী গঠনের উদ্যোগে শামিল হয়েছেন। এই পদক্ষেপকে তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের বিরোধী বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সায়নী। এমনকি বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থনে জমা দেওয়া নথিতেও তিনি স্বাক্ষর করেছেন বলে সূত্রের দাবি। বর্তমানে তিনি কলকাতার বাইরে রয়েছেন এবং দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে অবস্থান করছেন বলেও খবর।
এদিকে, তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ও দিল্লিতে পৌঁছে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সায়নী ঘোষের নাম এই বিতর্কে জড়ানো তৃণমূলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম সোচ্চার সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি দলের যুব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

উল্লেখ্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ সোমবার লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে এনডিএকে সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় বিভাজন ও বিদ্রোহের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *