লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকলে সফলতা আসবেই: উপাচার্য রাজীবমোহন পন্থ

Spread the news

আসাম ইউনিভার্সিটি এসসি অ্যান্ড এসটি এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে মেধাবী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা_____

বরাক তরঙ্গ, ৭ জুন : মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মেধাবী পড়ুয়াদের সংবর্ধিত করলো আসাম ইউনিভার্সিটি এসসি অ্যান্ড এসটি এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (AUSEWA)। একই সঙ্গে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এর এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্থা।

রবিবার শিলচর আম্বেদকর ভবন প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত এদিনের এই সংবর্ধনা সভায় এবছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ বা তার অধিক নম্বর নিয়ে কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হওয়া শতাধিক ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধিত করা হয়েছে। সংস্থার সভাপতি প্রফেসর রমাকান্ত দাসের পৌরহিত্যে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর রাজীবমোহন পন্থ। রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অজিতকুমার দাস, ড. বিশ্বরঞ্জন রায় ও ড. ঋত্বিকা রাজেন্দ্র। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মনালী লংমাইলাই। এদিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রকান্ত দাস। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন সংস্থার সহ-সভাপতি রঞ্জিত দাস। গোটা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাজকর্মী কমলেশ দাশ। 

এদিন শুরুতে বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর এর প্রতিমূর্তিতে মাল্যার্পণ ও পরে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ করা হয়। প্রধান অতিথির ভাষণে উপাচার্য প্রফেসর রাজীবমোহন পন্থ আয়োজক সংস্থার এধরণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। ছাত্রছাত্রীদের ভাল পড়াশোনার মাধ্যমে ভবিষ্যত জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানান। উপাচার্য আরও বলেন, লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়ে গেলে ছাত্রছাত্রীরা নিশ্চিতভাবে একদিন সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে। এই যাত্রাপথে অসফল হলেও দমে থাকলে চলবে না। লক্ষের প্রতি অবিচল থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই।

এদিকে, রিসোর্স পার্সন এর বক্তব্যে প্রফেসর অজিত দাস মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর অনুসূচিত জাতি ও জনজাতির ছাত্রছাত্রীরা সরকারি অথবা বেসরকারি কোন কোন সংস্থা থেকে আর্থিক সাহায্য লাভ করতে পারে সে সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করেছেন। নিজের বক্তব্যে প্রফেসর ড. বিশ্বরঞ্জন রায় বলেন, সিলেবাস পঠন পাঠনের পাশাপাশি ছাত্রদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর উপরও জোর দিতে হবে। তিনি সহজ ও বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে দক্ষতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে কর্মক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ও যোগ্য হয়ে থাকার জন্য দক্ষতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তিনি বলেন, দক্ষতা মানুষকে জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে এবং বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম করে। তিনি দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ভারত সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও আলোচনা করেন এবং পরিবর্তনশীল কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।

এদিন অধ্যাপিকা ঋত্বিকা রাজেন্দ্র মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করা ছাত্রছাত্রীরা কী কী ধরনের সুযোগ সুবিধা লাভ করতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করছেন। সংস্থার সভাপতি প্রফেসর রমাকান্ত দাস শিক্ষার সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সেইসঙ্গে শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও বলেন। বিশেষ অতিথির ভাষণে প্রফেসর মনালী লংমাইলাই বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য দৃঢ় সংকল্প, শৃঙ্খলা এবং অধ্যবসায়ের মতো গুণাবলি আয়ত্ম করতে হবে। উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের পছন্দের বিষয় নির্বাচন করতে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কর্মজীবনের সুযোগ গড়ে তুলতে, তাদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ইন্টারনেটে উপলব্ধ উৎস থেকে পড়াশোনা করতে হবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয় চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে ৫ বছর মেয়াদি সমন্বিত (ইন্টিগ্রেটেড) পাঠক্রম চালু করেছে এবং এখন শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিক (এইচএস) পাস করার পর সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করতে পারবে। এদিকে, সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রকান্ত দাস এউসেওয়া এর  পক্ষ থেকে মেধাবী তপশিলি জাতি ও তপশিলি জনজাতি  ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সকলকে স্বাগত জানান। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা ও নেতৃত্ব গড়ে তুলে ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সব শেষে সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এদিনের অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *