মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২ জুন : শ্রীভূমি শহর সংলগ্ন রেলওয়ে গেট থেকে অসম-ত্রিপুরা জাতীয় সড়ক হয়ে পুয়ামারা, শরিফনগর, বাঘন ও নলুয়া পর্যন্ত চলাচলকারী কয়েকজন অটোচালক হঠাৎ করেই যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি করায় এলাকাজুড়ে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা বা মতবিনিময় ছাড়াই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় শরিফনগর বাজারে বৃহত্তর এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণকে নিয়ে এক নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন জিপি সভাপতি তথা মালেগড় আঞ্চলিক পঞ্চায়েতের সহ-সভানেত্রীর প্রতিনিধি হোসেন আহমদ চৌধুরী।
সভায় দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, শইফনগর এলাকার কিছু অটোচালকের মনগড়া সিদ্ধান্তে ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সভায় উপস্থিত প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য সুখেন্দু শুক্ল বৈদ্য, সমাজসেবী মহি উদ্দিন চৌধুরী, মইন উদ্দিন, হোসেন আহমদ চৌধুরীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের বক্তব্যে বলেন, সামান্য জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জেলার অন্য কোনও অটো অ্যাসোসিয়েশন ভাড়া বৃদ্ধি করেনি। সেক্ষেত্রে শুধু শরিফনগর এলাকায় একতরফাভাবে ভাড়া বৃদ্ধি অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।
তারা উদাহরণ টেনে বলেন, শ্রীভূমির বিশাল এলাকার সম্মুখ থেকে সুপ্রাকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার পথের অটোভাড়া ২০ টাকা এবং নিলাম বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটারের ভাড়া ৩০ টাকা। সেই তুলনায় রেলওয়ে গেটের আসাম মেডিক্য়াল থেকে শরিফনগর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটারের ভাড়া ১০ টাকা এবং নলুয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটারের জন্য পূর্বনির্ধারিত ২০ টাকা ভাড়াই যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, জেলার কোথাও ভাড়া না বাড়লেও শরিফনগর এলাকায় মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথের জন্য ভাড়া ২০ ও ৩০ টাকা নির্ধারণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে এ বিষয়ে জেলা কমিশনার ও জেলা পরিবহন আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শরিফনগর এলাকায় কোনও বৈধ অটো অ্যাসোসিয়েশন নেই। অনেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই এবং কিছু অটোর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও অসম্পূর্ণ। ফলে একতরফাভাবে ভাড়া বাড়ানোর কোনো নৈতিক বা আইনগত অধিকার তাদের নেই।
তবে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে সাধারণ জনগণ ও অটোচালকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে বলেও সভায় মত প্রকাশ করা হয়। আপাতত পূর্বনির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন চালিয়ে যাওয়ার জন্য অটোচালকদের প্রতি বিনম্র আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য সুখেন্দু শুক্ল বৈদ্যকে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়াও হোসেন আহমদ চৌধুরী, ময়ীনুল হক, কবির উদ্দিন, মইন উদ্দিন, মহিউদ্দিন চৌধুরী, আজু মিয়া, মুতলিব আলি, নামর আলিসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এই কমিটি গঠিত হয়। এলাকার অটোভাড়া ও অন্যান্য জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা নিয়ে প্রয়োজনে নাগরিক সভা আহ্বান এবং জনমত গঠনের দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি।
উল্লেখ্য, অটোভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী শরিফনগর বাজারে এক প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করেন। সেখানে তারা উচ্চকণ্ঠে ‘১০ টাকা ও ২০ টাকা ভাড়া বহাল রাখতে হবে’ স্লোগান দেন এবং অটোচালক ও যাত্রীদের পূর্বনির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল করার আহ্বান জানান। এলাকাবাসীর দাবি, জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অবিলম্বে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।



