বরাক তরঙ্গ, ২ জুন : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এআইডিএসও-র কাছাড় জেলা কমিটি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী নিজেদের ফলাফল জানতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন। ডিজিটাল যুগে একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন দুর্বল প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
এআইডিএসও-র অভিযোগ, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সমস্যাই নয়, উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও গুরুতর ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। বহু মেধাবী শিক্ষার্থী, যারা নিজেদের পরীক্ষার পারফরম্যান্স সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, তাদেরও একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য বা ‘ব্যাক’ দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের মাধ্যমে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই মূল্যায়ন যথাযথ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়নি।
সংগঠনের দাবি, অতীতেও বহু ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়নের পর শিক্ষার্থীদের নম্বর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রথম দফার মূল্যায়নে কেন এমন গাফিলতি ঘটে এবং কেন শিক্ষার্থীদের অযথা মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত আর্থিক বোঝার মুখে পড়তে হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবছর একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
এআইডিএসও জানিয়েছে, ফলাফল সংক্রান্ত এই অব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই অবিলম্বে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য ফলাফল দেখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত নম্বর প্রদান করা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই ফলাফল-সংক্রান্ত অনিয়মের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘ছেলেখেলা’ বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত জবাবদিহি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।



