ইন্ডিয়া মডেল আইকন ২০২৬-এ প্রথম রানার-আপ শিলচরের সঞ্জলী সিং, গর্বিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ মে : শিলচরের গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সঞ্জলী সিং ‘ইন্ডিয়া মডেল আইকন ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপের খেতাব অর্জন করে অসম তথা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের মধ্যে নিজের আত্মবিশ্বাস, আকর্ষণীয় মঞ্চ উপস্থিতি এবং ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বিচারক ও দর্শকদের মুগ্ধ করে এই সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে বিকে স্টুডিওস। রবিবার শিলচরের উকিলপট্টিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জলী তাঁর এই সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এই যাত্রাপথে পরিবারের সদস্য, পরামর্শদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা তাঁর অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস ছিল।

সঞ্জলী বলেন, “এই সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। নিজের স্বপ্নকে কখনও ত্যাগ করা উচিত নয়। আমার পরিবার এবং মেন্টররা প্রতিটি পদক্ষেপে আমাকে সমর্থন করেছেন।”

বর্তমানে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সঞ্জলী ছোটবেলা থেকেই নৃত্য এবং বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ভবিষ্যতে ‘মিস ইন্ডিয়া’ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই মডেলিং জগতে নিজের পথচলা অব্যাহত রাখার কথা জানান সঞ্জলী। আগামী দিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস অসম’ প্রতিযোগিতায় তিনি অসমের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলেও জানা গেছে।

সঞ্জলী ‘শাইন এজেন্সি’র শিক্ষার্থী। সংস্থার প্রধান মেন্টর অমররাজ আচার্য বলেন, মডেলিংকে শুধুমাত্র র‍্যাম্পে হাঁটার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সঞ্জলীর এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন তাঁর বাবা সঞ্জয় কুমার সিংও। তিনি জানান, শুরুতে মডেলিং পেশা নিয়ে কিছু সংশয় থাকলেও মেয়ের ব্যক্তিগত বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস দেখে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অন্যান্য অভিভাবকদেরও সন্তানের স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

জাতীয় পর্যায়ের এই সাফল্যকে অসমের ফ্যাশন ও মডেলিং অঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বৃহত্তর মঞ্চে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও স্বীকৃতিরও প্রতিফলন ঘটেছে এই কৃতিত্বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *