‘সংযম’–বার্তায় সাড়া নেই কেন মন্ত্রীদের! ক্ষুব্ধ নমো

Spread the news

২৯ মে : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য দেশবাসীকে ‘সংযমে’র আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকের আধিকারিক এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও গাড়ির ব্যবহার কমানো, যতদূর সম্ভব কারপুলের ব্যবহার করার মতো একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছিলেন নমো। কিন্তু তারপরেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যের মধ্যে কোনও হেলদোল দেখা যায়নি বলেই গুঞ্জন দিল্লির রাজনৈতিক মহলে৷ সূত্রের দাবি, আগের মতোই মন্ত্রীদের অনেকে বড় কনভয় নিয়েই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করছেন৷ এই ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী!

দিল্লিতে সরকারি সূত্রের দাবি, বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সতীর্থ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছে জানতে চান, কতজন তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজেদের কনভয় কাটছাঁট করেছেন এবং কতজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কারপুলের মাধ্যমে অফিসে যাতায়াত করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশ্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে হাজির মন্ত্রীদের মধ্যে কয়েকজনই মাত্র হাত তুলেছিলেন বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে৷ এতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রত্যেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে তাঁদের কনভয়ের সাইজ় কমাতেই হবে৷ জ্বালানি সাশ্রয়কে মাথায় রেখে সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা দ্রুত কারপুল ব্যবহার শুরু করুন, এ কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী৷ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সাধারণ নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে আরও সচেতন করে তোলার জন্যও প্রত্যেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আহ্বান জানান নমো৷

সূত্রের খবর, বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সতীর্থ মন্ত্রীদের সম্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে৷ তৃণমূল স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে আমজনতার সমর্থন হারিয়ে ফেললে অদূর ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট নেতা বা মন্ত্রীর রাজনৈতিক অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়তে বাধ্য, সাফ জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী৷ তাঁর মনোভাব বুঝতে পেরে বৈঠকে যোগ দেওয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কেউই আর কথা বাড়াননি বলেই সরকারি সূত্রের দাবি৷

দিল্লিতে প্রশাসনিক মহলের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদীর আহ্বানের পরে সরকারি স্তরে গাড়ির ব্যবহারের উপরে রাশ টানা হয়েছে অনেকটাই৷ দেশের সব প্রান্তেই বহু সরকারি আমলা ‘কারপুল’ সিস্টেমে অফিসে যাতায়াত করছেন৷ দিল্লিতে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠকে দেখা গিয়েছে তাঁর আপ্ত সহায়কের বাইকে করে অফিসে যাতায়াত করতে৷ এর পরেও বহু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কেন তাদের গাড়ির কনভয় কমাচ্ছেন না বা কারপুল ব্যবহার করছেন না, সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ক্ষোভ অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত— এক বাক্যে স্বীকার করছেন বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের একটা বড় অংশ৷ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান মেনে দিল্লি সরকার ইতিমধ্যেই সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ শুরু করে দিয়েছে৷ দেশের শীর্ষ আদালতেও শুরু হয়েছে ভার্চুয়াল শুনানি, যেখানে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’দিন প্রত্যেক আইনজীবীকে ভার্চুয়াল মোডে শুনানিতে অংশগ্রহণ করার জন্য নির্দেশ জারি করা হয়েছে৷ তবে নমো চান, মন্ত্রীদের মধ্যেও এ নিয়ে সচেতনতা তৈরি হোক৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *