বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার ফ্রান্স-স্পেনের মুখোমুখি

Spread the news

শামিম বড়ভূইয়া
(
রেফারি)
১৪ জুলাই : ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। টানা তৃতীয়বার এবং ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিতে মরিয়া স্পেন।

বিশ্বকাপে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস খুবই সংক্ষিপ্ত। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফ্রান্স ৩-১ গোলে স্পেনকে হারিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাল্লা ভারী স্পেনের। ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে লামিন ইয়ামালের জোড়া গোলে ৫-৪ ব্যবধানে জয় পায় স্প্যানিশরা। এর আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ২-১ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল তারা।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে স্পেন জিতেছে ১৮টি ম্যাচ, ফ্রান্সের জয় ১৩টিতে এবং ৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে নকআউট ম্যাচে দুই দলের লড়াই বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ।

ফ্রান্স ও স্পেন প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল ১৯২২ সালের ৩০ এপ্রিল। ফ্রান্সের বোর্দোতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪-০ গোলে হারায় স্পেন। বার্সেলোনার কিংবদন্তি পাউলিনো আলকান্তারা এবং ট্রাভিয়েসো জোড়া গোল করেছিলেন সেই ম্যাচে।

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দলটি আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই দারুণ ভারসাম্য দেখিয়েছে। ছয় ম্যাচে মাত্র একবার গোল হজম করেছে স্প্যানিশরা। মাঝমাঠে রদ্রি ও দানি ওলমোর নিয়ন্ত্রণ, সঙ্গে নিকো উইলিয়ামসের প্রত্যাবর্তন স্পেনকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

অন্যদিকে, দিদিয়ের দেশঁর ফ্রান্সও টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠে নিজেদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছে। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। চলতি আসরে ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করা এই ফরাসি তারকা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তাকে সহায়তা করতে রয়েছেন উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে ডুয়ের মতো আক্রমণাত্মক ফুটবলাররা।

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ‘এমবাপে বনাম ইয়ামাল’। একদিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা এমবাপে, অন্যদিকে তরুণ প্রতিভা লামিন ইয়ামাল। তবে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়ে দলগত সংহতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে স্পেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্সের রক্ষণভাগ এখনও পর্যন্ত বড় কোনও পরীক্ষার মুখোমুখি হয়নি। স্পেন যদি নিজেদের পরিচিত ছোট ছোট পাসের ‘তিকি-তাকা’ ফুটবল সফলভাবে খেলতে পারে, তাহলে ফরাসি রক্ষণ চাপে পড়তে পারে। আবার ফ্রান্সের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণও স্পেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ডালাসে ম্যাচ ঘিরে ইতোমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। হালকা বৃষ্টিও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাটা ফেলতে পারেনি। এমবাপে ও ইয়ামালের কাট-আউট হাতে দুই দলের সমর্থকদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর মাত্র ৯০ মিনিটের লড়াই—এরপর এক দল উদযাপন করবে ফাইনালে ওঠার আনন্দ, অন্য দলের সঙ্গী হবে বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের বেদনা।
(তথ্য সংগৃহীত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *