১৪ জুলাই : জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরও এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। এবার থেকে দশম শ্রেণির ফাইনাল সার্টিফিকেট বা শংসাপত্র পেতে হলে পড়ুয়াদের তৃতীয় ভাষায় (Third Language) পাস করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার বোর্ড একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করে এই নতুন নিয়মের ঘোষণা করেছে।
বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী, দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের একটি তৃতীয় ভাষা নিতে হবে এবং তাতে পাশ করতে হবে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই তৃতীয় ভাষার জন্য কোনও বোর্ড পরীক্ষা দিতে হবে না। স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের (Internal Assessment) মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বরই গণ্য হবে। কিন্তু সাবধান! যদি কোনো পড়ুয়া এই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ফেল করে, তবে সে দশম শ্রেণির চূড়ান্ত পাসের শংসাপত্র পাবে না। অর্থাৎ, দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এই বিষয়টি এখন আর ‘ঐচ্ছিক’ বা ‘অতিরিক্ত’ হিসেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
বোর্ড জানিয়েছে, এই নিয়ম বর্তমান ব্যাচের পড়ুয়াদের জন্য প্রযোজ্য নয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যারা নবম শ্রেণিতে ভর্তি হবে, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রথম কার্যকর হবে। ফলে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে যখন তারা দশম শ্রেণিতে উঠবে, তখনই তাদের এই নতুন নিয়মের আওতায় পরীক্ষা দিতে হবে। বর্তমানে যারা দশম শ্রেণিতে পড়ছে, তাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই।
বোর্ডের নির্দেশিকায় কঠোরতার পাশাপাশি কিছুটা নমনীয়তাও রাখা হয়েছে। দশম শ্রেণিতে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে কেউ অকৃতকার্য হলে, বোর্ড পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাকে পুনর্মূল্যায়ন বা রি-অ্যাসেসমেন্টের সুযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয় সুযোগেও পাশ করতে না পারলে সার্টিফিকেট আটকে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, নবম শ্রেণিতে এই বিষয়ে কেউ ফেল করলে তাকে দশম শ্রেণিতে উঠতে বাধা দেওয়া হবে না, তবে দশম শ্রেণিতে পড়ার চলাকালীনই তাকে নবম শ্রেণির বকেয়া পরীক্ষাটি পাশ করে নিজের রেকর্ড পরিষ্কার করতে হবে।
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তিন ভাষার সূত্র
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘থ্রি ল্যাঙ্গুয়েজ ফর্মুলা’ বা তিন ভাষার সূত্র কার্যকর হতে চলেছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পড়ুয়াকে তিনটি ভাষা পড়তে হবে, যার মধ্যে অন্তত দুটি অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হতে হবে। বিদেশি ভাষা (ফরাসি, জার্মান, জাপানি ইত্যাদি) যারা পড়ছে, তারা তা চালিয়ে যেতে পারবে, তবে অতিরিক্ত হিসেবে একটি ভারতীয় ভাষা বেছে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
সিবিএসই-র এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে মামলা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করেছে যে, শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে তারা অবিচল। শিক্ষাবিদদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে পড়ুয়াদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়বে এবং ভারতীয় ভাষাগুলির চর্চা বৃদ্ধি পাবে। আগামী দিনে সিবিএসই-র মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য এই বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। অভিভাবকদের এখন থেকেই এই বিষয়টির প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



