স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করেছি বলল স্বামী

Spread the news

রূপক চক্রবর্তী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ জুলাই :
স্ত্রীকে গলা টিপে খুন করেছি। সায় ছিল বড়বোন ও মাসীর। শিলচর শহরের দাস কলোনি এলাকার রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হওয়া গৃহবধূ চম্পা দাসের স্বামী মৃত্যুঞ্জয় দাসের (জয়) এমন বয়ানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার পুলিশ আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোন আক্ষেপ না করে বলেন, চরিত্র ভালো ছিল না স্ত্রীর, তাই গলা টিপে হত্যা করেছি। শুধু তা নয়, এ ঘটনায় তার বড় বোন, মাসিরাও জড়িত বলে জানান। তাদের উস্কানিতে এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেন। তিনি বলেন, খুনের পর পুলিশে আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পরে বড় বোনের বাড়িতে চলে যান। তিনি আরও বলেন, স্ত্রী তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক কষ্ট দিয়েছিলেন।

এ দিকে, মৃতের ভাই শশিমোহন দাস বলেন, বিয়ের পর থেকেই চম্পা দাসের উপর নির্যাতন চালানো হতো এবং টাকা না দিলে তাঁকে মারধর করা হতো। ঘটনার একটি ভিডিও তাঁদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। বোনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শশিমোহন দাস।

উল্লেখ্য, পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টা পর্যন্ত চম্পা দাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বড় ছেলে ভুবন দাস বাড়িতে গিয়ে মাকে বিছানায় নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হয় এবং রাঙ্গিরখাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মৃত্যুঞ্জয় দাস পলাতক ছিলেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। মৃত্যুঞ্জয় দাস মূলত শিলকুড়ি বাগানের বাসিন্দা। দাসকলোনিতে ভাড়া থাকতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *