লোয়াইরপোয়া ব্লক উন্নয়ন কার্যালয়ে পর্যালোচনা সভা
মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ মে : পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দিসপুর থেকে ফিরে শুক্রবার নিজ কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা নিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল। এদিন লোয়াইরপোয়া খণ্ড উন্নয়ন কার্যালয়ে তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা। পাথারকান্দি ও লোয়াইরপোয়া এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং প্রশাসনিক পরিষেবাকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করে তোলার উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিভিন্ন সরকারি বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল। সভাকে ঘিরে ব্লক কার্যালয় চত্বরে প্রশাসনিক তৎপরতা ও কর্মচাঞ্চল্যের পরিবেশ তৈরি হয়। বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা তাঁদের বিভাগের চলমান প্রকল্প, জনমুখী কর্মসূচি, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি, উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিডিসি পাথারকান্দির সপ্ততি এন্ডো, এসিএস, সার্কেল অফিসার অদিতি নুনিসা, বিডিও অজয় কার্কি, বিডিও যুগান্ত কুনওয়ার, জেলা বন আধিকারিক অমল বরহাড়ে, আইএফএস, বন বিভাগের রেঞ্জার প্রণব জ্যোতি শর্মা-সহ বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক, প্রশাসনিক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় বিশেষভাবে উঠে আসে এলাকার রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, পানীয় জলের সমস্যা, গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন, বনভূমি সংরক্ষণ, সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা, নদী ও জলাশয় রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের বিষয়গুলি। উন্নয়নমূলক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা এবং কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, “সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প তখনই সফল হবে, যখন প্রশাসনের প্রতিটি বিভাগ সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। সাধারণ মানুষ যেন দ্রুত ও সহজভাবে সরকারি পরিষেবা পায়, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, সরকারি সম্পত্তি ও বনভূমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি এবং উন্নয়নের নামে কোনোভাবেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি বা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া সতর্কবার্তা দেন তিনি।
সভায় উপস্থিত আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্দেশ দেন, প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও মানবিক মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বানও জানান বিধায়ক।



