১৫ মে : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের মাঝে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা উসকে দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ ভারতের পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর এই অভাবনীয় মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক একে একটি ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইসলামাবাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গঠনমূলক আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ।
হোসাবলে তাঁর বক্তব্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, পুলওয়ামার মতো কোনো উসকানিমূলক হামলা হলে ভারতকে কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি কূটনীতির গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে বলেন,”পাকিস্তান যদি কাঁটার খোঁচা দিতে পুলওয়ামার (Pulwama) মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর অপচেষ্টা চালায়, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের তার উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। কিন্তু সেই সঙ্গেই আলোচনার দরজা বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ওদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।”
হোসাবলের এই অবস্থান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান বিদেশনীতির চেয়ে কিছুটা আলাদা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারত দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বলে আসছে, সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। গত কয়েক বছরে একাধিক জঙ্গি হামলার পর দিল্লির অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
বিশেষ করে গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর হামলায় ২৬ জন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর পর ভারত কড়া পদক্ষেপ নেয়। ৭ মে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindur) শুরু করে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের পাল্টা হামলার জবাবে ভারত তাদের ১১টি বায়ুসেনা ঘাঁটি তছনছ করে দিয়েছিল। সেই অভিযানে ১০০-র বেশি জঙ্গি এবং প্রায় ৩৫-৪০ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসলামাবাদই শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানিয়েছিল।
হোসাবলের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি একে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ এবং সরকারি অবস্থানের অবমাননা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের প্রশ্ন, যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন সন্ত্রাস বন্ধ না হলে কথা হবে না, সেখানে আরএসএস নেতা কেন আলোচনার পক্ষে সওয়াল করছেন?
যদিও পাকিস্তান এই মন্তব্যকে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছে। ইসলামাবাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ মেটানোর জন্য আলোচনার বিকল্প নেই। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরএসএসের এই সুরবদল মোদি সরকারের ওপর কোনো চাপ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



