বরাক তরঙ্গ, ১৪ মে : কংগ্রেস নেতা পবন খেড়াকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করছে মহানগর পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ তুলে নতুন করে চাপে পড়েছেন তিনি। অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত দু’টি সাংবাদিক বৈঠকে পবন খেড়া অভিযোগ করেছিলেন যে রিণিকি ভূঞা শর্মার বিদেশি পাসপোর্ট রয়েছে এবং বিদেশে তাঁর সম্পত্তিও আছে। এই অভিযোগের পরই রিণিকি ভূঞা শর্মা পবন খেরার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতেই অসম পুলিশ পবন খেরার খোঁজে তৎপরতা শুরু করে। সূত্রের দাবি, পুলিশের নজর এড়াতে কিছুদিন আত্মগোপনেও ছিলেন কংগ্রেস নেতা। পরে তিনি আগাম জামিনের আবেদন জানান। তবে গৌহাটি হাইকোর্টে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে শর্তসাপেক্ষ জামিন পান তিনি।
গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হলেও আইনি জটিলতা কাটেনি পবন খেরার। সম্প্রতি তাঁকে অসম পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হতে হয়। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে জেরা শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাঁকে। শুধু জানান, তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং আইনের উপর আস্থা রাখছেন।
এদিকে, টানা দু’দিনের জেরার পর একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারী সূত্রের। প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নির্বাচনী সুবিধা আদায়ের কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি গৌরব গগৈর ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, পবন খেড়ার সাংবাদিক বৈঠকের নেপথ্যে মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন গৌরব গগৈ। এমনকি জেরার সময় পবন খেরা নাকি স্বীকার করেছেন যে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি গৌরব গগৈয়ের দেওয়া তথ্যই প্রকাশ করেছিলেন। যদিও এই দাবি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি কংগ্রেস।
এছাড়াও, রিণিকি ভূঞা শর্মার নথি বিকৃতির অভিযোগে গৌরব গগৈয়ের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে কংগ্রেসের আরও এক নেতার নামও এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে বলে সূত্রের দাবি। ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য



