সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সামাজিকভাবে হয়রানির অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে সরব ধলাইয়ের যুবক

Spread the news

দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ মে : ধলাই জেলার চান্নিঘাট জিপির ৭ নম্বর গ্রুপে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় পরিস্থিতি। সরকারি প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় এক যুবককে সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন আগে স্থানীয় ১৪৪০ নম্বর অনুমতি এলপি স্কুল সংলগ্ন শিব বাড়ি কমিউনিটি হলে কোনো তথ্য ফলক ছাড়াই সরকারি প্রকল্পের কাজ শুরু করে জিপি কর্তৃপক্ষ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের নাম, বরাদ্দ অর্থ, কাজের মেয়াদ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে তথ্য ফলক টাঙানোর বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের।

এই বিষয়টি নিয়ে প্রথম থেকেই সরব হন গ্রামের সমাজ কমিটির সম্পাদক বিক্রম রায়। তিনি প্রকাশ্যে কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। এরপর থেকেই জিপি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে তার মতবিরোধের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। পরে জিপি সভানেত্রীর প্রতিনিধি দিলীপ কুমার রায়ের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হলেও বর্তমানে বিক্রম রায়কে সামাজিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিক্রম রায় দাবি করেন, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে একঘরে করার চেষ্টা চলছে। তার অভিযোগ, গ্রুপ সদস্যা জয়শ্রী রায়, তার স্বামী অমল কুমার রায়, শিক্ষক মনোজ কুমার রায় সহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি গহিন্দ্র রায়, লক্ষ্যমনি রায় এবং কুলেন্দ্র রায়ের নামও উল্লেখ করেন তিনি।

বিক্রম রায়ের অভিযোগ, “আমার বাড়িতে পূজা-পার্বণে যাঁরা আসেন, তাঁদেরও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমি শুধু সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা চেয়েছি। কিন্তু তার ফল হিসেবে আমাকে ও আমার পরিবারকে মানসিক এবং সামাজিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।”
একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একটি সরকারি প্রকল্পের কাজের দায়িত্ব একজন শিক্ষকের হাতে দেওয়া হল। তার দাবি, সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে গ্রামের সামাজিক কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটিকে অন্ধকারে রেখেই কাজ শুরু করা হয়। প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে গ্রুপ সদস্যা সহ কয়েকজন ব্যক্তি তার উপর চড়াও হন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও সে সময় গ্রুপ সদস্যা জয়শ্রী রায় দাবি করেছিলেন, মন্দিরের কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি করা হবে না।
তবে বিক্রম রায়ের অভিযোগ, এর আগেও একই মন্দিরের অর্ধেক কাজ করে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন অমল কুমার রায়। পরে তার বড় ভাই মনোজ কুমার রায় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করেন বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমানে শিব বাড়ি কমিউনিটি হলের খুঁটি উঁচু করা এবং একপাশে অতিরিক্ত তিনটি খুঁটি বসিয়ে নির্মাণকাজ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তবে প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয়, কাজের মান এবং বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।

এদিকে, বিক্রম রায় ও কৃপাময় রায় যৌথভাবে শিব বাড়িতে চলমান কাজের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *