১২ মে : বাংলা এবং ইংরাজি.. এই দুই ভাষাতেই একটা প্রবাদ রয়েছে। ‘লাভ ইজ় ব্লাইন্ড’, ‘প্রেম অন্ধ’। প্রেমে পড়লে মানুষের নাকি ভাল, মন্দ, ঠিক, ভুল… এইসবের কোনও হিসেবই নাকি থাকে না! সদ্য মধ্যপ্রদেশে ঘটে যাওয়া একটি বিয়ের ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতে, এই কথাই বলছেন অনেকে। যেখানে জেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন অ্যাসিসন্ট্যান্ট সুপারিনটেন্ডেন্ট (Assistant Superintendent) বরমাল্য গলায় দিলেন, এক কয়েদির! কয়েদি বলা অবশ্য ভুল, একটা সময়ে কয়েদি থাকলেও, বিয়ের সময়ে সাজামুক্ত হয়েছিলেন তিনি। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়েছিলেন। বর বধূর আলাপ অবশ্য হয়েছিল সেই জেলেই!
ঘটনাটি ঘটেছে, মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলায়। সেখানেই অ্যাসিসন্ট্যান্ট সুপারিনটেন্ডেন্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন, ফিরোজা খাতুন। সাতনা সেন্ট্রাল জেলের অ্যাসিসন্ট্যান্ট সুপারিনটেন্ডেন্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর আলাপ হয়, ধর্মেন্দ্র সিংহর সঙ্গে। সেই সময়ে, ওয়ারেন্ট ইন চার্জের বিশেষ দায়িত্ব পালন করছিলেন ফিরোজা খাতুন। ছতেরপুর জেলার চান্দলার বাসিন্দা এই ধর্মেন্দ্র সিংহ। ২০০৭ সালে একজন কাউন্সিলরকে খুন করে, পুঁতে ফেরার অভিযোগ জেলবন্দি ছিলেন এই ধর্মেন্দ্র সিংহ। সূত্রের খবর, জেলে থাকার সময়ে, বন্দিদের ওয়ারেন্ট সংক্রান্ত কাজে এই ফিরোজা খাতুনের সাহায্য করতেন ধর্মেন্দ্র। সেই থেকেই ২ জনের কথোপকথন শুরু হয়। একসঙ্গে কাজ করতে করতে, প্রথমে কাজের জন্যই কথোপকথন হত। তারপরে সেই কথোপকথন মোড় নেয় বন্ধুত্বের দিকে, তারপরেই প্রেমে পড়েন তাঁরা।
১৪ বছর জেলে কাটানো, অর্থাৎ সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল ধর্মেন্দ্র সিংহের। ৪ বছর আগে, জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। জেলে থাকার সময়ে, ভাল ব্যবহারের ফলে সময়ের আগেই তাঁর সাজা মকুব করা হয়েছিল। আর ধর্মেন্দ্র জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই তিনি ও ফিরোজা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদের সম্পর্কের কথা পরিবারকে জানানোর। মে মাসের ৫ তারিখ, ছতেরপুর জেলায়, মহা সমারোহে, অগ্নিসাক্ষী রেখে, সাত পাকে বাঁধা পড়েন ধর্মেন্দ্র ও ফিরোজা। সূত্রের খবর, বিয়ের আমন্ত্রণের কার্ডে ধর্মেন্দ্র সিংহের নাম বদলে দেওয়া হয়েছিল যাতে সামাজিকভাবে কোথাও কোনও কটাক্ষের শিকার না হতে হয়। বৈদিক মতে, মন্ত্রোচ্চারণ করে বিবাহ সারেন তাঁরা। তবে ফিরোজা খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিবাহ মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে তাঁর পরিবারের তরফে কেউ উপস্থিত ছিলেন না এই বিয়েতে।



